আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের আদেশ মিয়ানমার প্রত্যাখ্যান করলেও জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে আদালতের কাছে প্রতিবেদন পেশ করতে বাধ্য দেশটি। এমনটাই মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার পথও সুগম হবে বলে অভিমত তাদের। এছাড়া দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে সরকারকে পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় গণগত্যা বন্ধসহ আন্তর্জাতিক আদালত যে চার দফা অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমান। কিন্তু জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ দেশটির না মানার কোন সুযোগ নেই বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সাফিউল্লাহ বলেন, আদালত তাদের বিরুদ্ধে চারটি নির্দেশনা দিয়েছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থেকে তারা এই নির্দেশনা মানবে না বলে জানিয়েছে এবং তারা বলছে এটি একপেশে রায়।
আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর বলেন, এই রায় মিয়ানমারের জন্য বড় একটি ধাক্কা। এই অবস্থায় তাদের পক্ষ থেকে এই ধরণের প্রস্তাব দেয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ তারা বরাবরই বিষয়টাকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য সচেষ্ট ছিল। আন্তর্জাতিক আদালতের যে বিধিবিধান তাতে তারা বাধ্য এটি দিতে।
এই রায় বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথে যোগযোগ বাড়ানো এবং মিয়ারমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার পরামর্শ তাদের।
মোহাম্মদ সাফিউল্লাহ বলেন, এই রায়ের ফলে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এটি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। বিশ্বের কাছে গত দুই আড়াই বছর থেকে বাংলাদেশ যে অভিযোগগুলো দিয়েছে তা সত্যি প্রয়ামাণিত হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর বলেন, এই চাপ বজায় রেখেই রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, অধিকারসহ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হবে। এর জন্য আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রাখতে হবে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিধন চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। ২০১৯ সালের ১১ই নভেম্বর মিয়ারমারের এই নৃশংসতা বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি