কারো চোখেই পড়েনা দামুড়হুদার হত দরিদ্র ময়না খাতুনের অবস্থা

বয়সটা অনেক হয়েছে। ঠিক মত চলার ক্ষমতা তার নেই। এক বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়। তার নাম ময়না খাতুন। সংবাদের খোঁজে বেড়িয়ে পড়ি ময়না খাতুনের মাটির ঘড়ের দিকে। অবশেষে পেলাম সেই দরিদ্র সংগ্রামী মানুষের খোঁজ।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার তারিনিপুর গ্রামের গাং পাড়ার এক সংগ্রামী নারীই হলো ময়না খাতুন (৪২)। ছোট্ট একটি মাটির ঘড়েই তার বসবাস। যখন বড় আকাড়ে দেশে নানা ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব পরে। তার এই মাটির ঘড়ে থাকার অবস্থা খুবই বিপদজনক হয়ে পড়ে। কান্না জড়িত চোখে ময়না খাতুন বলেন তার জীবনের ইতিহাস।

জানা যায়, গত এক যুগেরও অধিক সময় আগে তার স্বামী খবির উদ্দিন সড়ক দূর্ঘটনায় গত হয়েছেন। রেখে গিয়েছিলেন ছোট ছোট দুটি ছেলে মেয়ে। দিন মজুর স্বামীর মৃত্যুতে ছেলে মেয়ে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন ময়না খাতুন। শুরু হয় সংগ্রামী জীবনযাপন। ছোট ছোট ছেলে মেয়ে কে দুবেলা দু মুঠো অন্ন্য তুলে দিতে কখনো তিনি কাজ করেন ইট ভাটাই, ক্ষেত খামার ও কখনো লোকের বাড়ি বাড়ি। এভাবেই কঠোর পরিশ্রম করে চলতে থাকে ময়না খাতুনের জীবন সংসার।

এরই মাঝে কয়েক বছর পর মেয়েটি বড় হয়ে বিয়ের উপযুক্ত হয়ে যায়। আবারও বেড়ে যায় ময়না খাতুনের দু:চিন্তা। গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় বিয়ে দিয়ে দেই মেয়েটার। বর্তমানে ময়না খাতুন আর আগের মতো পরিশ্রম করতে পারে না। গ্রামের লোক জনের সাহায্য ও সহযোগিতায় ময়না খাতুন একটি ছাগল কিনেন দু বছর আগে। সেটা থেকে বেড়ে এখন ৩টি ছাগল ময়না খাতুনের। ছেলেটি কাজ করে ইট ভাটাই দুবেলা দুমুঠো খেতে পারলেও নিরাপদে ঘুমানোর মতো নেই কোন ঘর।

ময়না খাতুন বলেন,বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য যাদের জমি আছে ঘর নাই ঘর করে দিচ্ছে শুনেছি। আমি কাগজপত্র জমা দিই কিন্তু সরকারের দেওয়া ঘরের তালিকায় আমার নাম নাই। আমার মতো সুবিধা বঞ্চিত অসহায়রা যদি ঘর না পাই তাহলে কে পাবে এই ঘর?
তারিনিপুর এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বললে তারা জনায়, আসলেই ময়না খাতুনের একটি ঘড় দেওয়া সবারই কর্তব্য। কিন্তু তার কপাল খারাপ তেমন কোনো সু-হৃদয়বান মানুষের চোখ তার উপর পড়েনি। এলাকার অনেক তরুনরা জানান, অবশ্যই আমাদের এলাকার সমাজ সেবকরা যদি একটু এগিয়ে আসে। তাদের সহযোগিতায় হয়তো এই মানুষটি একটু শান্তি মত বসবাস করতে পারতো।

ময়না খাতুনের ব্যাপারে হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) নিজাম উদ্দিন বলেন, এবার আমরা হাউলি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দূর্যোগ সহনীয় ঘর প্রাপ্তির ১৪টি আবেদন সংগ্রহ করে দামুড়হুদা উপজেলায় পাঠিয়েছি। দামুড়হুদা উপজেলা বাছাই কমিটি বাছাই করে ৭টির বরাদ্দ দিয়েছে। আর ময়না খাতুন এর আগের বার টিনের ঘরের জন্য আবেদন করেছিলো। এবার কোন আবেদন করেনি। তবে পরবর্তিতে তার বিষয়টা ভেবে দেখা হবে।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর