তিতাসের অভিযানে ২ হাজার বাসাবাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর সাভার জোনাল বিপনন অফিস অভিযান চালিয়ে ২ হাজার বাসাবাড়ীর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।  বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর সাভার জোনাল বিপনন অফিস (জোবিঅ) এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম এর নেতৃত্বে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের আইরিশ ফ্যাশনস এর গলির এলাকা এবং আশুলিয়ার জিরাবো ফুলবাগান এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়।  এসময় আনুমানিক প্রায় দুই কিলোমিটার ব্যাপী অবৈধ পাইপলাইন তুলে ফেলা হয়, এতে ওই দুই এলাকার দুই হাজার বাসাবাড়ীতে নেওয়া অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।  অভিযান চলাকালে অবৈধ সংযোগ কাজে ব্যবহৃত পাইপ ও রাইজারগুলিও খুলে জব্দ করে তিতাস কর্তৃপক্ষ।

এব্যাপারে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর সাভার জোনাল বিপনন অফিস (জোবিঅ) এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোঃ সায়েম জানান, আজ সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের আইরিশের গলির এলাকা এবং আশুলিয়ার ফুলবাগান এলাকায় অবৈধ সংযোগ প্রদানকারীরা আমাদের বৈধ বিতরণ লাইন থেকে অবৈধভাবে ২ ইঞ্চি ও ১ ইঞ্চি আনুমানিক প্রায় ২ কিলোমিটার ব্যপী পাইপ ব্যবহার করে সংযোগ নিয়েছে। আমরা এই সম্পূর্ণ পাইপলাইন তুলে ফেলার চেষ্টা করেছি। এতে আনুমানিক প্রায় ২ হাজার বাসাবাড়িতে নেয়া অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশ গ্যাস আইনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ গ্রহন ও প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের হবে বলেও জানান তিতাসের সাভার জোনাল অফিসের এই ব্যবস্থাপক।

গণমাধ্যমকে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানান, আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের আইরিশের গলি এলাকায়- জসীমউদ্দিন, পিতা- আলী দেওয়ান, দেওয়ান মোঃ আল আমিন, নাসির দেওয়ান, পিতা- গণি দেওয়ান, ৮/২৭৩, রিফাত কলোনী, ইউসুফ দেওয়ান, জিরাবো এই চারজনই মূলত অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে গ্যাস সংযোগ প্রদান করেছে।

কর্তৃপক্ষ এর বরাত দিয়ে আরো জানা যায়, আশুলিয়ার ফুলবাগান এলাকার সকল অবৈধ সংযোগ দেওয়ান লিয়াকত, পিতা- নাজির আলী দিয়েছেন।

ছবি: বার্তা বাজার

এছাড়া সরেজমিন অভিযানস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আইরিশ গলির সর্বশেষ মাথায় ৫১টি রুম সম্বলিত ডাক্তার কটেজ এ প্রতিটি কক্ষে এক একটি চুলা অবৈধ সংযোগ নিয়ে গ্যাস ব্যবহার করে আসছে। পংকজ নামের একজন ‘ম্যানেজার’ এই কটেজটি দেখাশুনা ও ভাড়া নেওয়ার কাজে নিয়োজিত। হিসাব করে দেখা গেছে, গত ৫ বছর ধরে এইভাবে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারে আনুমানিক ২৭ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকার গ্যাস অপচয় হয়েছে, যেহেতু মাসে একটি সিঙ্গেল চুলা থেকে সরকার ৯০০ টাকা পায়।

ছবি: বার্তা বাজার

এরকম আরও কয়েকটি কটেজ এর মালিক- ফাহিম দেওয়ান, মৃত সাহা দেওয়ান, এ্যাডঃ শারমিন, জামালউদ্দিন হাউজের মালিক জামাল দেওয়ান, হাজী আজিম উদ্দিন এরকম ভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে মাসের পর মাস গ্যাস ব্যবহার করে আসছেন। এতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

অভিযান চলাকালে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- তিতাসের সাভার জোনাল বিপনন অফিসের উপ-ব্যবস্থাপক আমিরুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান, সহ-ব্যবস্থাপক ইদ্রিস আলী, সহ-ব্যবস্থাপক সাকিব বিন আব্দুল হান্নান, সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান নয়ন, সহ-কর্মকর্তা এহসানুল হক প্রমুখ সহ তিতাসের কারিগরি টিমের শ্রমিকগণ।

প্রসঙ্গত, অভিযান চলাকালে ওই এলাকায় যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক ফজর আলীর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর