বরগুনার টাউনহল এলাকার কয়েকটি বাড়ির চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধক দেয়াল তুলেছে গণপূর্ত বিভাগ। এতে ওই পরিবারগুলোর সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। পরিবারগুলোর দাবি, তারা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ওই রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন। জমিটি অবৈধ দখল করে রাস্তাটি নির্মাণের দাবি গণপূর্ত বিভাগের।
বরগুনা পৌর শহরের টাউনহল এলাকার গণপূর্ত বিভাগের পুকুরের পশ্চিম পাড়ের জমি ক্রয় করে কয়েকটি পরিবার অনেক বছর ধরেই বসবাস করছে। এসব পরিবারের সদস্যরা চলাচলের জন্য পুকুরের মাঝখানের একটি রাস্তা ব্যবহার করেন। গেল ডিসেম্বর মাসে বরগুনা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ রাস্তার সংষ্কার কাজও করেছে। সেসময় রাস্তা নির্মাণে বাধা না দিলেও হঠাৎ করেই সড়কটি ব্যবহারে আপত্তি তোলে গণপূর্ত বিভাগ।
রবিবার দুপুরে গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ রাস্তার উভয় প্রান্তে প্রতিবন্ধক দেয়াল তুলে দেয়। ফলে পরিবারের সদস্যরা একপ্রকার অবরুদ্ধ জীবন-যাপন করছেন এখন। স্থানীয়রা বলেন, বিগত ৩০ বছর যাবৎ তারা এই রাস্তা ব্যবহার করছেন। এটা ছাড়া তাদের বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। এখন হঠাৎ করেই এই রাস্তায় প্রতিবন্ধক দেয়াল তুলে দেয়া তারা খুব কষ্টে চলাফেরা করছেন।
নাগরিকদের চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়টি অমানবিক ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার মত ঘটনা বলে মনে করেন মানবাধিকার ও সমাজকর্মীরা।
বরগুনা জেলার সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের বলেন, ‘পৌরসভা যখন রাস্তাটি করেছে তখন গণপূর্তের বাধা দেয়া উচিত ছিল, দীর্ঘদিন ধরেই পথটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত ছিল এখন হঠাৎ করেই বন্ধ করা সমীচিন নয়।’
বরগুনার মানবাধিকার জোটের সভাপতি সনজিব দাস বলেন, ‘একজন নাগরিকের চলাচলের জন্য তাকে পথ দিতে হবে, এটা তার অধিকার। আর যেহেতু এটা পৌরসভার মধ্যে এবং এ বিষয়ে একটি আইনও রয়েছে।’
রাস্তাটি গণপূর্ত বিভাগের জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দাবি করে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা বলেন সাময়িক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলেও শিগগিরই দখলমুক্ত করা হবে।
বরগুনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাজিদার রহমান বলেন, ‘রাস্তাটি গণপূর্তের জায়গায় তৈরি করা হয়েছে তাই অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ এমনকি এ বিষয়ে মন্ত্রীর নির্দেশও ছিল বলেও জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।
প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে জনস্বার্থে রাস্তাটি উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি স্থানীয়দের।-ডিবিসি
বার্তাবাজার/কে.জে.পি