শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক

মুন্সিগঞ্জে শীতকালীন সবজির ব্যাপক পরিমাণে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যেই ছাড়িয়েছে লক্ষ্যমাত্রা। বাজারে মৌসুমি সবজিগুলোর ব্যাপক চাহিদা থাকায় দামও চড়া। সবজি চাষে লাভের মুখ দেখছে কৃষক। মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি ।

জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, জেলার ৬টি উপজেলায় এবছর ৩ হাজার ৮শ ৫৫ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। উৎপাদনের পরিমান নির্ধারণ করা হয় ৮৩ হাজার ২৬৮ মেট্রিকটন। তবে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৪শ ৪০ হেক্টর জমি। এতে উৎপাদনের পরিমান ১ লাখ ১২ হাজার মেট্রিকটন ছাড়িয়ে যাবে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।

গত পাঁচ বছরের হিসেব থেকে জানাযায় ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে জেলায় ৪ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়। উৎপাদন হয় ১ লাখ ৬শ ৮১ মেট্রিকটন। ২০১৫-১৬ তে ৪ হাজার ২শ ৬৮ হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদন হয় ১ লাখ ৫ হাজার ৭শ ৬১ মেট্রিকটন। ২০১৬-১৭তে আলু চাষ বেশি হওয়ায়, ৩ হাজার ৯শ ৪০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়। উৎপাদন হয় ৯৭ হাজার ৯শ ৬১ মেট্রিকটন। আগের বছরে আলুতে ধ্বস এবং সবজির দাম ভালো পাওয়ায়, ২০১৭-১৮ তে ৪ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়। এতে উৎপাদন হয় ১ লাখ ৭ হাজার ৭০ মেট্রিকটন। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। উৎপাদনও ছিল খুব বেশি। ৪ হাজার ৪শ ৮৫ হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদন হয় ১ লাখ ১২ হাজার ৫শ ৮৪ মেট্রিকটন।

শীতকালীন সবজির মধ্যে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, টমেটো, শিম, মূলা, উস্তা, লালশাক খুব বেশি চাষ হচ্ছে। এছাড়াও পাশাপাশি সল্প কিছু জমিতে ধণে পাতা, গাজর সহ অন্যান্য খোরাকী সবজিও আবাদ হয়েছে। এসব সবজি সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে মুন্সিগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী ও সিরাজদিখান উপজেলায়।

সরেজমিনে গত ১৫-১৭ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল, বজ্রযোগনী, দক্ষিন চরমসুরা, চরকিশোরগঞ্জ, পাচঁগড়িয়াকান্দি, কাটাখালি, মহাকালি সহ টঙ্গিবাড়ি উপজেলার ধীপুর ও সিরাজদিখান উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখাযায়, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, লালশাঁক, সীম, লাউ, মুলা, ক্ষীড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাঁটা, উস্তা, পালনশাঁক সহ প্রায় ২০ ধরনে সবজির আবাদ হয়েছে। কোন কোন জমিতে সবজি আবাদ, পরিচর্যা, উত্তোলন করছে কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, এ সবজি গুলো প্রতি বছর অল্প পরিসরে চাষ করা হত। আলুর চাষটাই বেশি হত। আলুতে লোকসান গুনতে হওয়ায় সবজি চাষের দিকে একটু বেশি ঝুকেছেন তাঁরা। এখন পর্যন্ত যারা শীতকালীন সবজি বিক্রি করতে পেরেছেন, প্রত্যেকেই তাদের খরচ পুশিয়ে দ্বীগুনেরও বেশি লাভবান হয়েছেন।
তাঁদের উৎপাদিত এসব সবজি মুন্সিগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ সহ আশপাশের জেলার বাজার গুলোতেও বিক্রি হচ্ছে বেশ চড়া দামে। তাঁরা বলছেন এবার সব ধরনের সবজি চাষিরা লাভবান হয়েছে। গত ৫ বছরে এবারই সব পন্যের দাম খুব ভালো পেয়েছেন।

সদর উপজেলার রামসিং এলাকার শাহ আলম জানান, ৩৫ শতক জমিতে দেশীয় জাতের শিমের চাষ করেছেন। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। গত এক মাসে শিম বিক্রিকরে ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন তিনি। এ ভাবে আরো তিন মাস বিক্রি করবেন।

উপজেলার দক্ষিন চরমসুরা এলাকার কপিচাষি জুলহাস জানান, এ বছর সে ১২ হাজার বাঁধাকপি ও ৩ হাজার ফুলকপির চাষ করেছেন। প্রতিটি কপির জন্য ৮-১০টাকা খরছ হয়েছে। প্রতিটি কপি ২২-২৫ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে। জমিতে ফলনও ভালো হয়েছে। তাই খরচ বাদে দ্বীগুনের বেশি লাভ হচ্ছে।
সাতানিখিল এলাকার টমেটো চাষি কামাল হোসেন বলেন, ৪৬ শতক জমিতে আগেলতি টমটোর চাষ করেন তিনি। খরচ হয় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। গত এক মাসে প্রায় ২লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। নতুন করে আরো ৩০ শতক জমিতে টমেটোর চাষ করেছেন তিনি।

এছাড়াও টঙ্গিবাড়ি উপজেলার ধীপুর এলাকার লাউ, শ্রীনগর উপজেলার আড়িয়ল বিলে মিষ্টি কুমড়া, সিরাজদিখানে উপজেলার উস্তা ফলন এবার খুব বেড়েছে। বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

মুন্সিগঞ্জ কৃষি সম্পাসরন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নীরুত্তম কুমার সরকার জানান, মুন্সিগঞ্জ আলুর জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। আলুতে কয়েক বছর লোকসান হওয়ায় শীতকালীন সবজির দিকে ঝুকতর শুরু করেন কৃষকরা। সবজির উৎপাদন বেশি, পাশাপাশি দামও ভালো থাকায় লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। জেলায় ধীরেধীরে সবজির আবাদও বাড়তে শুরু করেছে। এবছর মুন্সিগঞ্জে শীতকালীন সবজির উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, এ বছর শীত একটু বেশি হলেও তা সবজি চাষের জন্য ভালোছিলো। কয়েক দিন আগের বৃষ্টির কারনে শীতকালীন সবজি আবাদ আরো ভালো হবে।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর