কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে সুখাতী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের বিশেষ শিশুদের নিয়ে এক আনন্দভোজ করেন কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার জনাব মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম। তার নিজস্ব অর্থায়নে এক আনন্দভোজের আয়োজন করা হয় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এসময় তিনি নিজে পরিবেশন করে শিশুদের খাওয়ান এবং তাদের সাথে বসে একসাথে খাবার খান। ৭০ জন বিশেষ শিশু এ সময় তৃপ্তি করে খাবার খান। খাবার মেনুতে ছিলো পোলাও,মুরগীর রোস্ট,খাসির মাংস, ডিম,মাছ, সেভেন আপসহ নানা রকমের খাবার।

খাবার শেষে বিশেষ শিশুদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এসময় তিনি সকল শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শীতের পোষাক উপহার দেন এবং দুটি শিশুর হেয়ারিং এইড কেনার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আরো দশ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম ব্যাগ উপকরন ইত্যাদি কেনার জন্য তার সংগ্রহীত আরো পঞ্চাশ হাজার টাকা তুলে দেন বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসাইনের হাতে। তিনি বলেন বিদ্যালয়টির সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও কারিকুলাম তাকে আকৃষ্ঠ করেছে বিদ্যালয়টি সার্বিক উন্নয়নে অভিভাবকের মতো পাশে থাকবেন।
এসময় তার সাথে সিনিয়র এএসপি লুৎফর রহমান, নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ রওশন কবিরসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসাইন এর কাছে অনুভুতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আসলে কি বলবো ভাষা হারিয়ে ফেলেছি আম কখনো আশা করিনি আমার মতো এরকম একজন ক্ষুদ্র মানুষের গড়া প্রতিষ্ঠানে স্যার নিজে এসে এতো সময় দিবেন আমার শিশুদের বুকে টেনে নিবেন, আদর করে ভালোবেসে তাদের খাওয়াবেন, নতুন জামা দিবেন, আমি স্যারে প্রতি চিরকৃতজ্ঞ আল্লাহ তাকে দীর্ঘজীবি করুক, তিনি বিদ্যালয়টির পাশে আজীবন থাকবেন এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে তবু তিনি আমার শিশুদের বিভিন্ন উপকরন কেনার জন্য নগদ ষাট হাজার টাকা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে সকল সমস্যায় পাশে থাকবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ শিশুদের অভিভাবক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ আনন্দভোজ অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করেন। উল্লেখ্য বরাবরই প্রতিষ্ঠানটির পাশে দাড়িয়ে আসছেন পুলিশ সুপার কুড়িগ্রাম মহোদয়।
এসময় তিনি সুখাতী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ২টি আধুনিক মানের থেরাপি ইউনিট উদ্ধোধন করেন ও পরিদর্শন করেন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি