দুর্বিষহ জীবনযাপন: ৪ বছর ধরে ভাতা বন্ধ মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দীনের

ভাঙ্গা বেড়া ও টিনের সেট ঘরে বসবাস মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দীনের। বেড়ার ফাঁকা দিয়ে বাতাস ঢুকলে ঠাঁন্ডায় কেঁপে ওঠেন রাতে ঘুমানোর সময়। গায়ে দেয়ার মত তেমন ভালো কম্বল নেই তার। ভাঙ্গা তার বাড়ির অন্য ঘর গুলোও। ভাতা নেই তাই ঠিক করতে পারছেন না বাড়ি-ঘর।

অন্যদিকে গত চার বছর ধরে ভাতা বন্ধ হয়ে আছে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের হরেয়া পাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দীনের। ফলে ছেলে মেয়ে নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন তিনি। একদিকে সংসারে অভাব-অনটনে দিনাতিপাত করছেন অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপ, শারিরিক দূর্বলতা সহ নানা অসুখে ভূগছেন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। বয়সের ভারে ঠিকমত চলাফেরা করতে সমস্যা হচ্ছে তার। ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি। ভাতার জন্য এই বয়সে নানা জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করেছেন কিন্তু কার কাছে গেলে এ সমস্যার সমাধান হবে জানেন না তিনি।

তার বড় ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩৫) জানান আমার বাবা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীন করেছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সকল দলিল-প্রমাণাদি আছে তার। কিন্তু হঠাৎ করে কেন আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে বুঝতে পারছি না। বাড়িভিটা ছাড়া আমাদের কোন জমি নেই। আমি দিনমজুর হিসেবে কাজ করি অন্যের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন তিনি যেন আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আবার চালু করে দেন।

মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দীন জানান ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছি। আমি ৬ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছি সেক্টর কমান্ডার হাজী মুরাদ আলীর নেতৃত্বে। আমি প্রথমে দেবনগর থেকে যুদ্ধ শুরু করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ করেছি। আমার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট সহ সকল দলিল-প্রমাণাদি থাকার পরেও আজ আমি ৪ বছর ধরে ভাতা পাইনা। দেশরত্ন শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সাল থেকে ভাতা দেওয়া শুরু করেন। আমি গত ১৩/১৪ বছর ধরে ভাতা নিচ্ছি। সর্বশেষ ১০/১২/২০১৫ সালে একসাথে ৩ ( তিন ) মাসের ভাতা প্রতি মাসে আট হাজার টাকা করে মোট ২৪ হাজার টাকা তুলি। এরপরে কি কারণে আমার ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে আমি জানিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন তিনি যেন আমার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আবার চালু করে দেন। এটাই আমার শেষ বয়সের চাওয়া।

হরেয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা হবিবর রহমান ( ৭৪) জানান, আফতাব উদ্দীন একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তার ২ ছেলে ২ মেয়ে । আমি তাকে মুক্তিযুদ্ধ করতে দেখেছি। যদিও আমি মুক্তিযোদ্ধা না তারপরও আমি তাদের যুদ্ধকালীন সময়ে দেখতে যেতাম ও খোঁজখবর নিতাম। তার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধ হয়ে আছে। সে খুবই অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে । সরকার যেন পুনরায় তার ভাতা পাবার ব্যবস্থা করে দেন।

সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন ” বার্তা বাজারকে ” বলেন মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দীনের নাম উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির “ক” তালিকায় আছে। আমরা তদন্ত করে জেনেছি সে আসলে একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং তার এলাকার লোকজন আমাদের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছে যে আসলে সে একজন মুক্তিযুদ্ধো। তবে তার ভাতা বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নতুন গেজেট প্রকাশের পর পরিস্কার হবে সে পুনরায় ভাতা পাবে কি না। এটি সরকারের ব্যাপার এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর