চবি ছাত্রলীগের পক্ষ-উপপক্ষের সংঘর্ষ, পরিস্থিতি থমথমে

নিজেদের মধ্যকার পক্ষ-উপপক্ষের সংঘাতে কর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘বিজয়’ নামে ছাত্রলীগের একটি উপপক্ষ।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে নিজেদের তিন কর্মীকে মারধরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যায় অবরোধের ডাক দেয় ছাত্রলীগের উপপক্ষ ‘বিজয়’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বগিভিত্তিক সংগঠন ‘বিজয়ে’র তিন কর্মীকে শিবির স্টাইলে পিটিয়ে রগ কেটে দেয়া হয়েছে দাবি করে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতির নির্দেশে ঘটেছে এ হামলার ঘটনা। তাই সভাপতির পদত্যাগ ও হামলাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে।

এর আগে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে পৃথক দুই সংঘাতের ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাতকর্মী আহত হন। এদের মধ্যে তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় সোহরাওয়ার্দী ও শাহ আমানত হলে পুলিশের সহায়তায় তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার বিকেলে সাড়ে ৪ টার দিকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে একটি ইভেন্ট শুরুর আগে ট্র্যাকে অনুশীলন করছিলেন ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শামীম আজাদ। সে শাখা ছাত্রলীগের উপপক্ষ সিএফসি কর্মী হিসেবে পরিচিত। এ সময় তাকে ট্র্যাক থেকে সরে যেতে বললে সে বিজয় পক্ষের স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের মিঠুন সরকারকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করে। এ সময় দু’জনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এতে আজাদ আহত হবার খবর ছড়িয়ে পড়লে সিএফসি পক্ষের কর্মীরা শাহ আমানত হল থেকে জড়ো হয়ে সোহরাওয়ার্দী হলে বিজয়ের তিন কর্মীকে মারধর করে।

আহতরা হলেন- রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক জীবন, আইন বিভাগের একই সেশনের অপূর্ব এবং গণিত বিভাগের রাওফান। পরে চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। বিবাদমান দুটো পক্ষই শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেলের অনুসারী।

এ ঘটনায় নিয়ে বিজয় ও সিএফসির মধ্যে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধাওয়া পাল্টা ও উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ দুই পক্ষকে হলে ঢুকিয়ে দেয়। তবে পরিস্থিতি এখনো থমথমে।

এর আগে পৃথক আরেকটি ঘটনায় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে জিরোপয়েন্ট সংলগ্ন একটি খাবার দোকানে শাখা ছাত্রলীগের উপপক্ষ সিক্সটি নাইনের তিন কর্মী মারধরের শিকার হন। গত সোমবার প্রক্টর কার্যালয়ে দুই ছাত্রলীগের কর্মীর মধ্যে মারধরের ঘটনার জেরে রেড সিগন্যালের অনুসারীরা সিএনজি অটোরিকশা যোগে এসে তাদের ওপর এমন অতর্কিত হামলা চালায় বলে দাবি করেন সিক্সটি নাইনের সদস্যরা।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন- নাট্যকলা বিভাগের মাহফুজুল হুদা লোটাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ইব্রাহিম খলিল ও ইতিহাস বিভাগের জাহিদ শাকিল। তারা সকলে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিবাদমান দুটি পক্ষই সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী।

এদিকে তিন কর্মীকে মারধরের ঘটনায় সিএক্সটি নাইনের কর্মীরা বিকেলে জিরো পয়েন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে স্লোগান দেয়। এসময় তারা বিকেল ৪টার শহরগামী শাটল ট্রেনের চাবি কেড়ে নেয়। এতে বন্ধ হয়ে পড়ে শাটল ট্রেন চলাচল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ঘটনায় বিচারের আশ্বাসের ভিত্তিতে বিকেলে ৫টার দিকে তারা প্রধান ফটকের তালা খুলে দেয় ও ট্রেনের চাবি ফেরত দেয়।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর