সাতক্ষীরায় নিজ সন্তানকে মাটি চাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শামীমা আক্তার বন্যা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। গত রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ সন্তান ফাহিম হোসেনকে (২) হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারে করে। জেলার দেবহাটা উপজেলার পুষ্পকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকবছর আগে সদর উপজেলার কালিন্দি ছয়ঘরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে আর্মড পুলিশ সদস্য শিবলুর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় বন্যার। তিনি পুষ্পকাটি গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে।
বিয়ের আগে উপজেলার দক্ষিণ আলীপুর গ্রামের খবিরউদ্দীনের ছেলে সুজন হোসেনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বন্যার। দায়িত্বের কারণে শিবলু আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে অবস্থান করছিলেন। তিনি বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হয়ে আসছিল তার।
মনোমালিন্য থাকলেও স্ত্রীর সঙ্গে পরবর্তী সময় স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করতেন শিবলু। এর মধ্যে তাদের সন্তান ফাহিমের জন্ম হয়। কিছুদিন আগে একই বিষয় নিয়ে শিবলুর সঙ্গে বন্যার ফের মনোমালিন্য হয়। এ কারণে সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন বন্যা। এ সময়টিতে শিবলুও তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এসব ঘটনা চলাকালীন গত রোববার দুপুরে বাবার বাড়ির উঠানে গর্ত খুঁড়ে ফাহিমকে জীবন্ত মাটি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন বন্যা। এ সময় আরেক প্রতিবেশী ঘটনা দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরবর্তীতে ফাহিমকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার ব্যাপারে এলাকায় জানাজানি হলে গতকাল সোমবার বিকেলে সংবাদকর্মীরা বন্যার বাবার বাড়ি গেলে ফাহিমকে ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ করে সবাই পালিয়ে যান। এ কারণে তাদের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এমনকি আর্মড পুলিশ সদস্য শিবলুর মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিষয়টি নিয়ে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ‘জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা বন্যাকে ফাঁসাতে বিষয়টি অতিমাত্রায় অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস