এত উন্নত দেশ। এত উন্নত সব ব্যবস্থা চারিদিকে। বিশ্বের যে কোনো মানুষের অভিবাসনের জন্য পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকেই থাকে কানাডা। কিন্তু প্রদীপের শিখার নিচেও অন্ধকার আছে।
এক গবেষণা প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, কানাডায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর খাবার পান না প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। ক্ষুধার কারণে অনেক মানুষ গড় আয়ু পর্যন্ত যাওয়ার আগেই মারা যান। দেশটিতে ক্যানসারের পরই মৃত্যুহার বাড়ার অন্যতম কারণ হলো ক্ষুধা।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এএফপির খবরে বলা হয়, কানাডার যেসব নাগরিক প্রতিদিনের খাবার জোটাতে পারেন না, তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি।
কানাডার প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর করা এই জরিপে দেখা গেছে, খাবার জোটাতে যারা সামর্থ্য, তাদের তুলনায় যারা সামর্থ্য নন, তাদের মধ্যে সংক্রামক রোগ, অনিচ্ছাকৃত আঘাত ও আত্মহত্যার হার দ্বিগুণ।
নিবন্ধের লেখক টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট ডক্টরাল ফেলো লিড ফেই মেন থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে বলেন, প্রথম বিশ্বের দেশে আমরা তৃতীয় বিশ্বের মতো সমস্যা খুঁজে পেয়েছি।
তিনি বলেন, কানাডায় খাদ্য নিরাপত্তাহীন লোকজন সংক্রমণ ও মাদক সেবনের মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, যেমনটা আমরা উন্নয়নশীল দেশে হতে দেখি। ফলাফলও বেশ অন্য রকম। কানাডার মতো উন্নত বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এখনও মৃত্যুর কারণ।
কানাডার গবেষণায় গবেষকরা অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য দেখেছিলেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৮২ হাজারেরও বেশি মানুষ গড় বয়সের আগে মারা গিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমীক্ষায়ও একই রকম তথ্য পাওয়া গেছে।
বার্তাবাজার/এমকে