আলফাডাঙ্গায় সাড়ম্বরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

প্রকৃতিতে নতুন পাতার উচ্ছ্বাস।পাখির কুহুতানে,শিশুর কলহাস্যে, লোকজ বাদ্য-বাজনার সুর মূর্চ্ছনায়, নতুনের আগমনীতে প্রকৃতি আজ উদ্বেলিত।লাল-সাদা পোশাকে বর্ণিল ডালি সাজিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে নতুন বছর ১৪২৬ বঙ্গাব্দকে সাড়ম্বরে স্বাগত জানিয়েছে বাঙালি।

এ উপলক্ষে সারাদেশের নেয় ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলাতেও ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী, পেশা ও বয়সের ভেদাভেদ ভুলে সবাই একাত্ম হয়েছিলো ১৪২৬ সালকে বরণ করে নিতে।সমগ্র আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পহেলা বৈশাখে দিনভর প্রশাসন,বিভিন্ন শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করে।সকাল ৮টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে বিশাল এক বৈশাখী র‌্যালি বের হয়।

উক্ত বৈশাখী র‌্যালিতে অংশ নেন থানা অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করীম, পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফার,সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ.কে.এম আহাদুল হাসান (আহাদ),উপজেলা নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান শেখ দেলোয়ার হোসেন ও নবনির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা পারভীন প্রমুখ।

উক্ত শোভাযাত্রায় প্রশাসনের পাশাপাশি ঢাক-ঢোল, বাদ্য বাজিয়ে নানান সাজে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের লোকজন অংশ গ্রহন করে।বৈশাখের নানা পোশাকে সেজে ছোট, বড়,ছেলে,মেয়ে, ইউএনও,কলেজ অধ্যক্ষসহ এমনকি বুড়োরাও মেতেছিলেন এই উৎসবে।বাঙ্গালীর ঐতিহ্য মাথায় গামছা বেঁধে ও ‘পহেলা বৈশাখ’ লেখা প্লেকার্ড কপালে বেঁধে বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন সর্বশ্রেণীর মানুষ।র‌্যালিতে অংশ গ্রহনকারীরা তাদের নিজস্ব ধারণায় আবহমান বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির চিত্র ফুটিয়ে তুলে।র‌্যালিটি উপজেলা চত্বর থেকে উপজেলা চৌরাস্তা হয়ে সমগ্র পৌর শহর প্রদক্ষিণ করে আবার উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে এক অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন স্থরের কর্মকর্তা,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।পরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করা হয়।

এদিকে ফরিদপুর-১ আসনের এমপি মো. মনজুর হোসেনের গ্রামের বাড়ীর শেখ জেহের উদ্যানে সূফিয়া-মহিউদ্দিন ফাউন্ডেশনের আয়োজনের পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়।নানা আয়োজনের মধ্যে ছিলো আলোচনা সভা,বৈশাখী মেলা, শিশু-কিশোর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, শিশুদের হাতে খড়ি অনুষ্ঠান,বরেণ্য বিশিষ্ট নাগরিক সংবর্ধনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা ইত্যাদি।

জানা যায়,বর্ষবরণ উপলক্ষে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে শুরু হয় গ্রাম্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন,বেজীডাঙ্গা কাজী আমেনা ওয়াহেদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমে উঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,টিটা মা রিসোর্ট ও এগ্রো ফিশারে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে চলে বর্ষবরণ উদযাপন,টগরবন্ধ ইউনয়নের তিতুরকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে বসে গ্রাম্য মেলা।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পান্তা ইলিশের আয়োজন ও বৈশাখী র‌্যালি অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, মোঘল সম্রাট আকবর খাজনা আদায় ও ফসল উৎপাদনের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন।পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসার সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রথম দিন ‘পহেলা বৈশাখ’ দিনটিকে যথাযথ মর্যাদার সহিত উদযাপন করে থাকেন। পুরনো বছরের লেনদেন পরিশোধ করে নতুন খাতা শুরু করার লক্ষ্যে এ দিনটিকে ব্যবসায়ীরা “শুভ হালখাতা” হিসেবে উদযাপন করে থাকেন।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর