মুহাম্মাদ হুমায়ুন চৌধুরী, ব্যুরো চীফ চট্টগ্রাম, ২০ জানুয়ারী ২০২০ঃ ৩২ বছর আগে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীকে হত্যার চেষ্টায় গোলাগুলিতে নিহত ২৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী হত্যা মামলায় ৫ জন আসামিকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় স্পেশাল জজ মোহাম্মদ ইসমাঈল হোসেনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯৮৮ সালে লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আদালত ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়া পাঁচ আসামি হলো- জে সি মণ্ডল, মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, শাহ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন। আসামিরা সবাই পুলিশ সদস্য ছিলেন। এদের মধ্যে জে সি মণ্ডল পলাতক হলেও বাকি চার আসামি রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। চার আসামি এ মামলায় জামিনে ছিলেন। রোববার (১৯ জানুয়ারি) চার আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৪ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। যেখানে সাবেক মন্ত্রী, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ মোট ৫৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। পরে রোববার ও সোমবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যুক্তিতর্কের সময় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে জে সি মণ্ডল তার নিয়ন্ত্রিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছিলাম আমরা। আসামিরা নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইলেও নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেনি। অতঃপর আদালত আসামিদের মৃত্যদন্ডের রায় ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি বিকালে লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের আয়োজিত সমাবেশে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের সামনে পুর্ব পরিকল্পনামতো আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহর লক্ষ্য করে গুলি করে পুলিশ। তখন দলের নেত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত ২৪ জন নেতাকর্মী।
এ ঘটনায় ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী মোহাম্মদ শহীদুল হুদা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। আদালতের আদেশে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি প্রথম এবং অধিকতর তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়। অভিযোগপত্রে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাসহ আট পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন যথাক্রমে- তৎকালীন সিএমপি কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা, কোতোয়ালী জোনের পেট্রোল ইন্সপেক্টর (পিআই) জে সি মণ্ডল, কনস্টেবল আব্দুস সালাম, মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, বশির উদ্দিন, শাহ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন। এদের মধ্যে তিনজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন এখনও পলাতক রয়েছেন।
২০০০ সালের ৯ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত।
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি লালদীঘির ঘটনায় নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া, মো. কাসেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ ও শাহাদাত।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস