এক যুগ ধরে দড়িতে বাঁধা সুজন, দেখার কেউ নেই

নওগাঁর রাণীনগরে প্রায় এক যুগ ধরে খোলা আকাশে ও ঘরের বারান্দায় দড়িতে বাঁধা সুজন দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। উপজেলার কালিগ্রাম ইউপির করজ গ্রামের মৃত লিতব আলীর ছেলে সুজন মন্ডল (২৫)।

মানসিক ভারসাম্যহীনতার অজুহাতে উপযুক্ত চিকিৎসা না করে তার পরিবারের লোকজন দিনে ঘরের বারান্দায় মোটা দড়ি দিয়ে গাছের খুঁটির সাথে হাত বেঁধে রাখে। রাতে তার জায়গা ঘরে হলেও ছোটাছুটির কারণে বাড়ির লোকজনের ঘুম পাড়ার তেমন সুযোগ হয় না। এমনকি প্রতিবেশীরাও তাদের ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে ‘সুজন অতঙ্কে’ থাকে।

জানা গেছে, ৯ ভাই বোনের মধ্যে সুজন ষষ্ঠ। তার পিতা বেঁচে থাকাকালীন চিকিৎসার জন্য এলাকার বিভিন্ন কবিরাজের দ্বারস্থ হয়ে অপচিকিৎসার কবলে পড়ে। তাকে ভূতে ধরেছে এমন অপবাদ দিয়ে কবিরাজরা সুজনের পিতার কাছ থেকে চিকিৎসার নামে নানা প্রলোভনে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিয়মিত ঝাড়ফুঁক করতে থাকে।

কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। একপর্যায়ে সুজন নানাধরনের ভারসম্যহীনতার আচরণ করায় পরিবারের সদস্যরা হাতে দড়ি বেঁধে রাখতে বাধ্য হয়। গরিব-অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা করানো হলেও আর্থিক অনটনের কারণে দীর্ঘমেয়াদি উপযুক্ত চিকিৎসা করতে না পারায় তার উন্মাদনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সুজনের মা রিজিয়া বেওয়া জানান, জন্মের পর থেকে সে মাঝে মধ্যে কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করত। বয়স বৃদ্ধির সাথে সুজনের ভারসম্যহীন আচরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওর বাবা বেঁচে থাকতে জমি বিক্রয় করে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন পন্থার চিকিৎসার একপর্যায়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।

গত ১০ বছর আগে সুজনের বাবা মারা যাওয়ার পর অন্য ছেলে-মেয়েরা পৃথকভাবে বসবাস করায় একপর্যায় টাকার অভাবে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক রাণীনগরে কয়েকজন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আমি নিজে সুজনের বাড়িতে গিয়ে তার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সুজনের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর