সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিজমি ধ্বংস করে অবাধে চলছে পুকুর খনন। আর কৃষিজমির সেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইট ভাটায়। প্রশাসনের নাকের নিচে সব ঘটলেও তারা যেন কিছুই দেখছে না। প্রভাবশালীরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের নেকমরদের করনাইট গ্রামে রাস্তাসংলগ্ন ফসলি জমিতে এক্সকাভেটর লাগিয়ে প্রায় ২ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। আর মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইট ভাটায়। শুধু তাই নয়, ওই এলাকার মানুষের চলাচলের রেকর্ড ভুক্ত ১৩ ফিট রাস্তাও কেটে পুকুর খনন করার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। এলাকার মানুষ এখন চলাচল করছে অন্যের জমির উপর দিয়ে। আগামী বর্ষায় ওই রাস্তাটিও ভেঙ্গে পুকুর গর্ভে চলে যাবে অশঙ্কা করছে গ্রামবাসী।
তারা আরও জানায়, রাস্তাটি কেটে পুকুর খনন করার কারণে ওই এলাকায় কোন ট্র্রাক বা পিকআপ প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছে ওই এলাকার ফল বাগান মালিক ও কৃষকেরা। ওই জমির প্রকৃত মালিক কৃষক আবুল হাসেম ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে জমিটি ১০ বছরের জন্য লিজ দিয়েছে জামিল নামে এক ব্যবসায়ীকে। বর্তমানে জামিল ওই জমি থেকে মাটি তুলে বিক্রি করছে স্থাণীয় ৩ টি ইট ভাটায়।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, একদিকে পুকুর খনন যেমন আইনবিরোধী তেমনি ফসল নষ্ট করে পুকুর খনন করায় প্রকৃতিরও গুরুতর ক্ষতি করে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশা করছি।
ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বার্তাবাজার/এমকে