ব্রিটিশ রাজপরিবার ছাড়ছেন না প্রিন্স হ্যারি

রাজকীয় পদ ও উপাধি ছাড়লেও রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করার কথা জানিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি। রোববার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় লন্ডনের এক অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় হ্যারি এ কথা জানান। হ্যারি দাবি করেন, বিশ্বাসের ওপর ভর করে রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। এছাড়া তার আর কোনও উপায় ছিল না।

নানা টানাপোড়েনের পরও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে রাজকীয় পদ ছেড়েছিলেন ব্রিটেনের প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। শনিবার রাজকীয় উপাধিটুকু ছাড়েন তারা। বাকিংহাম প্যালেস থেকে দেয়া বিবৃতিতে রানি এলিজাবেথ জানিয়েছেন, এখন থেকে ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অফ সাসেক্সের আগে ‘রাজকীয়’, ‘মাননীয়’ –এই সম্মানসূচক শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে না। একেবারে সাধারণ ব্রিটিশ পরিচয় নিয়ে থাকতে হবে তাদের।

হ্যারি স্পষ্ট করেন, তিনি এবং মেগান রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন না। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য আমার বাড়ি এবং এ জায়গাটাকে আমি সবচেয়ে ভালোবাসি—এই অনুভূতি কখনো বদলাবে না।

২০১৮ সালের মে মাসে হ্যারি ও মেগানের বিয়ে হয়। এর এক বছরের মাথায় ছেলে আর্চির জন্ম। এ দম্পতিকে নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে অনেক সময় নেতিবাচক খবর প্রকাশ করা হয়েছে। ভিন্ন দেশের ও শ্বেতাঙ্গ না হওয়ায় নানা ধরনের নেতিবাচক কথা শুনতে হয়েছে মেগান মার্কেলকে। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের বাড়াবাড়ি নিয়েও বিরক্ত হ্যারি-মেগান।

গত বুধবার তারা রাজকীয় দায়িত্ব কমিয়ে এনে নতুন জীবন শুরুর ঘোষণা দেন। তারা উত্তর আমেরিকায় আরও বেশি সময় কাটানোর এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। এতে রানি ও রাজপরিবারের সদস্যরা মর্মাহত হন। বলা হচ্ছে, রানির অবাধ্য হয়ে প্রিন্স হ্যারি ব্রিটিশ রাজপরিবারে যে সঙ্কট তৈরি করেছেন, তা দুই মহাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

বিবিসির রাজপরিবারের সংবাদদাতা জনি ডায়মন্ড বলেন, রানির ইচ্ছার সঙ্গে সংগতি রেখে রাজপরিবারের সঙ্গে হ্যারি-মেগান দম্পতির সম্পর্ক ভবিষ্যতে কেমন হবে তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

হ্যারি ও মেগান কেন রাজপরিবারের আরাম-আয়েশি জীবন ছেড়ে যাচ্ছেন, এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই উঁকি দিচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, তারা স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারেন। ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চিন্তাভাবনাও আছে তাদের। ব্র্যান্ড বিশেষজ্ঞ ও হলিউড পর্যবেক্ষকেরা এমনটাই বলছেন।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর