চাঁদপুরে উপসনার জন্য ১টি প্যাগোডাও নেই বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের।এমন তথ্যই উঠে আসে সাপ্তাহিক শপথের অনুসন্ধানে। যাতে করে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে অনেকটা বেগপেতে হচ্ছে।
জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১ এর তথ্যমতে, চাঁদপুরে মুসলিম রয়েছে ২২ লক্ষ ৬৯ হাজার ২’শ ৪৬,হিন্দু রয়েছে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫’শ ৫১,খ্রিস্টান ৪’শ ২৩ এবং বৌদ্ধ ধর্মালম্বী রয়েছে ১’শ ১০ জন ও অন্যান্য ৬’শ ৮৮ জন।তাতে দেখা যায় চাঁদপুর জেলার মোট জনসংখ্যা ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ১৮ জন।এ নিয়ে জেলা ওয়াকফ বিভাগ ও চাঁদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক তথ্য মতে, মুসলিমদের জন্য ৩’শ ৫৫টি পাঞ্জেগানা ও ৪ হাজার ৫’শ ৯৭টি জুমা মসজিদ রয়েছে।
যার মধ্যে ওয়াকফভুক্ত মসজিদ ৩’শ ৩১টি।চাঁদপুরের মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষার সহকারী প্রকল্প পরিচালক অমিত কুমার সাপ্তাহিক শপথকে জানান,জেলার চাঁদপুর সদরে ২৯,হাইমচরে ১৮,হাজীগঞ্জে ৩৫,ফরিদগঞ্জে ২৩,শাহারাস্থিতে ১৫,মতলব দক্ষিণে ৩৪,মতলব উত্তরে ২৭ ও কচুয়ায় ৩৭টি সহ সনাতনধর্মালম্বীদের মোট ৩’শ টি মট ও মন্দির রয়েছে।
চাঁদপুর ব্যাপ্টিষ্ট চার্চের পালক রেভা. চার্লস অনূপ দাস সাপ্তাহিক শপথ কে জানান, খ্রীস্ট ধর্মালম্বিদের জন্য জেলায় ৭ টি’র মতো চার্চ রয়েছে।এর মধ্যে ফরিদগঞ্জের সাহেব বাজার ও হাইমচরে ১টি করে মোট ২টি ক্যাথলিক চার্চ রয়েছে।
আর চাঁদপুর সদরের দক্ষিণ বালিয়া,বহরিয়া,গুনরাজদী,ব্যাকিলিয়া ও শহরে ১টি করে মোট ৫টি ব্যাপটিস্ট চার্চ সহ সর্বমোট ৭টি চার্চ অর্থাৎ গির্জা রয়েছে।যেখানে আমরা খ্রিস্ট ধর্মালম্বীরা সবাই একত্রিত হয়ে বড়দিন,পূর্ণ শুক্রবার ও ইস্টার সানডে সহ আমাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান করে থাকি। অথছ চাঁদপুরের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি’র সহ একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আইকন রয়েছেন।
যা সত্ত্বেও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা তাদের জন্য নূন্যতম ১টি প্যাগোডা(উপাসনালয়) তারা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের জন্য পাচ্ছে না।হয়তো এ বিষয়টি তারা কেউ ওই আইকনদের নজরেও আনেননি।শহরের বেশ কয়েকজন বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সাথে এ ব্যপারে সাপ্তাহিক শপথ আলোচনা করলে তারা জানায়,বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা চাঁদপুরে অতি নগন্ন।অনেকে হয়তো সাময়িক চাকুরী কিংবা অনেকে ব্যবসার জন্য এখানে আছেন।
আর ওনারা ওনাদের ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমা,আষাঢ়ী পূর্ণিমা,কঠিন চিবরদান,মধু পূর্ণিমা,মাঘী পূর্ণিমার মতো বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সবাই একত্রিত হতে চেয়েও বৌদ্ধ বিহার(প্যাগোডা) না থাকায় সুযোগ পাচ্ছে না।যেজন্য তারা এখন পর্যন্ত কোন সংগঠন পর্যন্ত করতে পারেননি।যদিও অনেকে কুমিল্লা বা চট্রগ্রামের বৌদ্ধ বিহারগুলিতে গিয়ে তাদের ধর্মীয় উৎসবে আনন্দঘন সময় কাটান বেশ কয়েকজন বৌদ্ধ ধর্মালম্বী সাপ্তাহিক শপথ কে আরো জানান, চাঁদপুরে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের বৌদ্ধ বিহার করে সেখানে যদি ১জন বৌদ্ধ ভিক্ষু বা বিহার অধ্যক্ষ নিযুক্ত ও তার রক্ষনাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়।
তাহলে হয়তো বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা তাদের ধর্ম চর্চা ও তাদের শিশুরা ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে অনেকটা সহজ হবে।২০ জানুয়ারি সোমবার এ ব্যপারে চাঁদপুরের বৌদ্ধধর্মালম্বী বিশিষ্ট ছড়াকার ও চিকিৎসক ডাঃ পীযুষ কান্তি বড়ুয়ার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি সাপ্তাহিক শপথকে বলেন,বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের চাঁদপুরে কোন সংগঠন নেই।
জেলা প্রশাসন থেকে যদি উদ্যোগ নিয়ে জেলার সব বৌদ্ধদের একত্রিত করে একটি মতবিনিময় করার ব্যবস্থা করা যায়।তাহলে হয়তো সকলে মতামত দিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বৌদ্ধ বিহার করার কর্মপরিকল্পনা করা যেতে পারে।জেলা প্রশাসন ছাড়া জেলার সব বৌদ্ধদের একত্রিত করা সম্ভব নয়।
এ ব্যপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি রেভেনিউ) মোহাম্মদ আব্দুল্লা আল মাহমুদ জামানের দৃষ্টিগোচর করে আলোচনা করা হলে তিনি জানান,দেশে চাঁদপুর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যতম জেলা।এ জেলায় সবাই সবার ধর্মীয় চর্চা নির্বিগ্ন করতে পারবে।
বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের বৌদ্ধ বিহার করতে দিতে প্রয়োজনে আমরা আমাদের খাশ জমি দিয়ে দিবো।কেননা জেলা প্রশাসনের প্রচুর খাশ জমি বিভিন্নভাবে রয়েছে।পরিসংখ্যান অফিস হতে তাদের তথ্য নিয়ে দ্রুত তাদের নিয়ে বসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/এমকে