তীব্র শীতে চারদিকে জ্বর-ঠাণ্ডা আর শীতের নানা রোগের প্রকোপ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের রোগ। ডায়ারিয়ার প্রকোপ আর নিয়মিত শীতের রোগ। চলতি মৌসুমে ডায়ারিয়ায় আক্রান্তের হার বেশি হলেও শীতে শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি শিশু মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইতোমধ্যে শীতজনিত রোগাক্রান্তের হার কমে এসেছে। মৃত্যুও গেলো বছর নভেম্বর থেকে কমে এসেছে। এখনো শীতে শ্বাসকষ্টে শিশুর মৃত্যুর খবর আসছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতে শিশুদের নিয়ে সচেতন হতে হবে। তাদের শীতের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখলেই শীতের রোগ থেকে রেহাই মিলবে।
চলমান আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বলা হয়েছে, আগামী মার্চের শুরু পর্যন্ত দেশের মৌসুমী বায়ু এমন থাকবে। তাই সতর্কতার বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, গত বছর পয়লা নভেম্বর থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত সারা দেশে তিন লাখ ৯৫ হাজার ২৬০ জন মারা গেছে। এ সময়ে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে শুধু শিশু রয়েছে ২২ জন।
শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে খাগড়াছড়িতে ১৫ জন, মাদারীপুরে দুজন, বান্দরবানে একজন, পাবনায় একজন, নীলফামারী দুজন, ভোলায় আরও এক শিশু মারা গেছে।
তবে খুলনা ও সিলেট বিভাগের ১৪টি জেলায় কোনো শিশু মারা যায়নি। শিশুদের সাথে সাথে আরও পাঁচজন বৃদ্ধ ডায়রিয়ায় মারা গেছেন। এছাড়া শীতে চোখের প্রদাহ, জ্বর, চর্মরোগ, জন্ডিস এবং আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে আক্রান্তের হিসাবে শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৬২ হাজার ৭৯৩, ডায়ারিয়ায় এক লাখ ৫২ হাজার ৬৫৪ এবং শীতের অন্যান্য রোগে আরও এক লাখ ৭৯ হাজার ৮১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
গতকাল রোববার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে পাঁচ হাজার ৩৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে এসময় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ সফি আহমেদ বলেন, এখন শিশুদের আক্রান্তের হার একটু কমে আসতে শুরু করলেও ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না। এখনো আক্রান্ত হচ্ছেন শীতের বিভিন্ন রোগে।
বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রেও রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এজন্য পরিবারের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাচ্চাকে গরম খাবার খেতে দিতে হবে। শীতের হাত থেকে যতদূর সম্ভব দূরে রাখতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ছয় মাসের কমবয়সি শিশুদের শুধুই মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এছাড়া ডায়রিয়ার ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য বাচ্চাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে খেতে দিতে হবে। সেই সাথে শিশুর কোনো রোগের আলামত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, শীতের রোগে আক্রান্তের হার ইতোমধ্যে কমে আসতে শুরু করেছে। প্রাণহানিও কমতে শুরু করেছে। কারণ নভেম্বরের তুলনায় রোগী কমতে শুরু করেছে। এটা তাদের সচেতনতার ফলেই হয়েছে।
তিনি বলেন, শীতের রোগ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সবাই সতর্ক থাকলে শীতের রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ইতোমধ্যে আক্রান্তের হার কমেছে। আশা করি প্রাণহানিও কমে আসবে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি