চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতে নষ্ট হচ্ছে বরজের পান : চাষীরা দিশেহারা

পান বরজ নিয়ে যাদের জড়িয়ে আছে স্বপ্নের বাসনা ও ভালোবাসা। আজ সেই বাসনা যেন চোখের সামনে অশ্রু হয়ে ঝরছে নির্বিকার হয়ে। আজ সেই বরজটির দিকে হতভাগ্য হয়ে চেয়ে আছেন চাষির পরিবার।

চুয়াডাঙ্গাসহ জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় হঠাৎ করে দেখা দিয়েছে পান বরজে রোগ। আর এই রোগে বরজ থেকে ঝরে পড়ছে পান। উপজেলায় এক মাত্র অর্থকরী ফসল হচ্ছে পান। আর সেই পান চাষিরা এখন দিশেহারা।

গত ১-২ সপ্তাহ থেকে বরজ গুলোর পান হঠাৎ করেই ঝরে পড়ছে। এ অ লের পান বরজ গুলোতে অজ্ঞাত পচন রোগের আক্রমন দেখা দিয়েছে। বরজে গুলেতে হঠাৎ করে পানের বোটা নরম ও পাতা লাল হয়ে ঝরে পড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই অনেক পান বরজ পান ঝরে পড়ার কারনে বরজ গুলি প্রায় পান শূন্য হয়ে পড়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালী বন্দর ভিটা গ্রামের পান চাষি নুর ইসলাম জানিয়েছে আমার পান খেতে পানের গাছ থেকে বোটা খুলে পড়ছে জমিনের উপরে ঝরা পান ব্যতীত এক পর্ন পান বাজারে বিক্রয় করে থাকি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা মূল্যে, ঝরা পান বাজারে নিয়ে গিয়ে বাজার মূল্য বিক্রয়ের সময় তার মূল্য পায় মাত্র ২৫ থেকে ২৮ টাকা। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন প্রতিবছরের মতো এবার শীতের প্রবাহ বেশি পড়ছে আর এই শীতের কারণে আমাদের পান ক্ষেত থেকে পান ঝরে পড়ছে বেশিরভাগ।
পানচাষি আমিন উদ্দিন জানিয়েছেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ পান চাষ করে আসছি তবে এ বছরে পান ক্ষেত থেকে বেশির ভাগ ঝরে পড়া ও পেকে যাওয়া দেখতে পারছি আর এই ঝরে পড়া পান ও পাকা পান আমরা বাজারে নিয়ে গিয়ে সঠিক মূল্য পাচ্ছিনা।

এ বিষয়ে পান চাষী মোমেন আলী বলেন, এবার আমার ১ একর জমিতে পান খেত রয়েছে বর্তমান বাজারে ১ পর্ন পানের মূল্য ১০০ থেকে১৮০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে, কিন্তু ঝরে পড়া পান বর্তমান বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা মূল্যে বিক্রয় করতে হচ্ছে, এভাবে চললে আমাদের লোকসান হবে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তিনি বলেন, পান ক্ষেত থেকে পান ঝরে পড়ার বিকল্প পথ হতে পারে পান ক্ষেতের উপরে যে চালের সাওনি আছে ঐ ছাওনি বিছালী অথবা খড় দিয়ে ভালোভাবে চালকে ছেয়ে রাখতে হবে যাতে পান খেতে ঠান্ডা কম পড়ে এবং পান বরজের সাথে মজবুত করে বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখতে হবে যাতে পান খেতে ঠান্ডা বাতাস না লাগতে পারে তাহলে দেখা যাবে পান ক্ষেত থেকে পান ঝরা ও পাকা সম্ভাবনা নেই।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর