নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রী রহিম নামের যুবককে কুপিয়ে হত্যা মামলার মূল আসমী আসিফসহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। হত্যার দায় স্বীকার করে এ হত্যা মামলার মূল আসামী আসিফ ও আলামত নস্ট করার অভিযোগ স্বীকার করে তার মা রাজিয়া ও খালা সুরতানা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ আজ দুপুর সাড়ে তিনটায় হত্যার মূল আসামী আসিফকে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে হাজির করলে বিকেল সাড়ে পাচটা পর্যন্ত দুই ঘন্টা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
এদিকে হত্যার আলামত নস্ট করার অভিযোগে তার মা রাজিয়াকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কাউছার আলম ও খালা সুলতানাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আহমেদ হুমায়ন কবীরের আদালতে হাজির করলে হত্যার আলামত নস্ট করার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।
এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন , আসিফ রহিমের কাছে ১৫ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এই পাওনা টাকা আদায়ের জন্য গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় রহিমকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে আসিফের ফোনফেক্সের দোকানে। পরে রাত নয়টার দিকে আসিফ রহিমকে গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসি রহিমকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ তিনশ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেছে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। এর পর ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার আছে আসিফের মা রাজিয়া তার ছেলের দোকানে মেঝেতে পড়ে থাকা রক্তসহ হত্যার আলামত নস্ট করে।
একই সাথে তার খালা সুলতানা হত্যার কাজে ব্যাবহৃত ছুরি নিয়ে একটি ডোবায় ফেলে দেয়। এর পর আসিফের মা ও খালাকে পুলিশ গ্রেফতার করলে তাদের স্বীকারোক্তিতে পুলিশ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসিফকে গ্রেফতার করে। পরে সে পুলিশের কাছে ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রী রহিম কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার সম্মতি জানান।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস