হরিজন সম্প্রদায়ের বলেই স্কুলে পড়তে বাধা

নাম তার বিরাট বাসপর। হরিজন সম্প্রদায়ের ছোট্ট এ শিশু এবছর পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছে কুলাউড়া শহরের একটি স্কুলে। বইখাতা নিয়ে স্কুলে যেতে যখন প্রস্তুতি চলছে তখনই এসেছে মন খারাপ করা সংবাদ।

স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বাধা হয়ে দাড়িয়েছেন তাকে ভর্তির ব্যাপারে। বিরাট স্কুলটিতে পড়তে গেলে অন্য অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে অন্যত্র সরিয়ে নেবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন। এ অবস্থায় স্কুল কতৃপক্ষ তার ভর্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ঘটনাটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার অগ্রদূত চাইল্ড কেয়ার হোমস্ নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। সূত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলা ভূমি অফিস রোডে অবস্থিত অগ্রদূত চাইল্ড কেয়ার হোমস নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সেখানে স্কুলের যথাযথ নিয়ম মেনে গত ১৩ জানুয়ারি বিরাট বাসপরকে ভর্তি করান তার পিতা মনা বাসপর। তাদের বসবাস পৌর শহরের পরিনগর এলাকায়। ছেলেকে ভালো স্কুলে পড়ানোর জন্য দরিদ্র পিতা স্কুল ড্রেসসহ বইখাতা কিনে দেন।

এরই মাঝে মনা বাসপরকে ডেকে তার ছেলেকে ক্লাসে পাঠাতে নিষেধ করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ছাত্র-ছাত্রীদের বেতনের টাকায় স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না তারা। শুধুমাত্র বছরের শুরুতে বই পাচ্ছেন।

এ অবস্থায় বেশিরভাগ অভিভাবক মৌখিক আপত্তি জানালে বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিরাটকে ক্লাসে যেতে নিষেধ করা হয়। এদিকে ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার বিরাটের অভিভাবক একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর।

মনা বাসপর বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। আমরা হরিজন সম্প্রদায় বলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তারা জানান। বিষয়টা অমানবিক। আমার ছেলেকে অন্যদের মতো পড়াতে চাই।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিখিল বর্ধন বলেন,’হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলে হলেও বিরাটকে আমরা ভর্তি করেছি। কিন্তু কিছু অভিভাবক তাকে ক্লাসে নিতে বারণ করেছেন। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ আমাদের প্রথমে চিন্তা করতে হবে।

আমি চাই শহরের অন্যান্য স্কুলেও যেন এই সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। নতুন স্কুল হিসেবে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মহল নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। এটা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যাবেনা,সে যেই সম্প্রদায়ের হউক। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষকে ডেকে এনেছিলাম।

ওই স্কুলছাত্রকে ক্লাসে ফিরিয়ে নিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি।’ আগামী মঙ্গলবার স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক সভার প্রস্তুতি চলছে। সেখানে নিস্পত্তি হতে পারে বিরাটকে নিয়ে তৈরী হওয়া জটিলতার।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর