বিয়ের ৬ দিন আগে যুবকের মৃত্যু

বিয়ের মাত্র মাত্র ছয় দিন আগে নিহত হয়েছেন দুবাই প্রবাসী এক যুবক।

শনিবার (১৮ জানুয়ারী) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা পুলিশ হতে পাওয়া যায় নিহতের খবর। নিহতের নাম মোহাম্মদ রাইহানুল ইসলাম চৌধুরী সজীব।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত সজীব মাস চারেক আগে দুবাই থেকে দেশে এসেছিলেন। দেশে আসার পর গত ডিসেম্বর মাসের ১৯ তারিখ বাদে আছর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে কদমতলী নিবাসী সাবিনা ইয়াসমিন আফরিন(১৯) নামে এক যুবতীর সাথে তাঁর আকদ অনুষ্ঠিত হয়। যার বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান চলতি মাস জানুয়ারীর ২৫ তারিখ নগরীর কাজির দেউরিস্থ ক্লাব ভিআইপি ব্যানকুইটে হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে বর ও কনে পক্ষ উভয়ের তরফ থেকে দাওয়াত কার্ড সহ যাবতীয় সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। অপেক্ষা ছিল শুধু সময়ের। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বিয়ের মাত্র ৬ দিন আগেই বর মোহাম্মদ রাইহানুল ইসলাম চৌধুরী সজীবকে মৃত্যবরণ করতে হলো।

নিহতের পরিবার জানায়, ১৭ জানুয়ারী শুক্রবার রাত ৮টার পর হতে নিহত সজীব সহ তার আপন ছোট ভাইকে পাওয়া যাচ্ছিলোনা। তাঁদের মোবাইল ফোনে কল করলে কেউ কল রিসিভ করছিলোনা। অকারণে হঠাৎ করে এভাবে দুই সহোদরের খোঁজ খবর না পাওয়াটা পরিবারের নিকট অস্বাভাবিক মনে হয়। তাই নিহতের পরিবার পক্ষ আজ ১৮ জানুয়ারী (শনিবার) সকাল দশটার দিকে প্রথমে নগরীর কোতোয়ালি থানায় বিষয়টি অবহিত করেন এবং পরে বাকলিয়া থানায় জানান। বাকলিয়া থানা হতে নিহতের মোবাইল নাম্বারের লোকেশন ট্র্যাক করে মইজ্জার টেকের কালার পোল এলাকায় মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান চিহ্নিত করা হয়।

চিহ্নিত অবস্থানে গিয়ে নিহতের পরিবার পুনরায় মোবাইলে কল করলে কর্ণফুলী থানা পুলিশের এসআই শাহীদুল কল রিসিভ করেন এবং তাঁদের একটি লাশ পাওয়ার কথা জানান। লাশের খবর শোনা মাত্র নিহতের পরিবার থানায় গিয়ে সজীবের লাশ শনাক্ত করেন। এরপর বিকাল চারটায় কর্ণফুলী থানা এসআই শাহীদুলসহ আরো কিছু পুলিশের সহায়তায় সজীবের লাশ ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তবে ডাক্তার না থাকাতে এখন পর্যন্ত সজীবের লাশ ময়না তদন্ত করা হয়নি। আগামীকাল রোববার (১৯ জানুয়ারী) সকাল দশটায় লাশের ময়না তদন্ত করা হবে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সজীবের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে এসআই শাহীদুল বলেন, সুনির্দিষ্ট তদন্ত না করে আগাম কিছু নিশ্চিত করা বলা যাবেনা।

এছাড়া সজীবের পরিবারবর্গও সজীবের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর কোন কারণ বলতে পারেনি। তবে সজীবের গায়ে বেশ কিছু পেটানোর দাগ দেখা গেছে বলে জানান সজীবের আত্মীয় স্বজন।

এদিকে সজীবের লাশ পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন তাঁর আপন ছোট ভাই। বিয়ের মাত্র কদিন আগে দুবাই প্রবাসী সজীবের এমন মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অজানা রহস্য।

নিহত সজীব পটিয়ার দক্ষিন খরনার চৌধুরী বাড়ির আলহাজ্ব আতাউর রহমান চৌধুরীর ছেলে।

স্বামীর ঘরে বউ হয়ে ওঠার মাত্র ছয়দিন আগেই স্বামীর এমন অকাল মৃত্যুতে শোকাভিভূত পিতা হারা কনে সাবিনা ইয়াসমিন আফরিন ও তাঁর পরিবার পরিজন৷ হাসপাতালে কনের মা রোকসানা বেগম ও মামা আনোয়ার হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়েন। কষ্ট করে পিতা হারা মেয়েকে কোলে পিঠে খুব আদর যত্ন করে বড় করা মেয়ের সংসার শুরু ও বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানের মাত্র ছয় দিন আগে কনে পক্ষের মাঝে সজীবের মৃত্যুর কালো ছায়া ছড়িয়ে পরে।

সজীবের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে সজীবের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী ও স্ত্রীর আত্মীয় স্বজনের মাঝে শোকের ছায়া দেখা গেলে সজীবের আপন আত্মীয় স্বজনদের মাঝে সন্তান হারা নিয়ে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে জানান সজীবের সদ্য আকদ করা স্ত্রীর আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশী।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর