৪৮ বছর পর বাবাকে ফিরে পেলেন সন্তানরা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে ৪৮ বছর পর হারিয়ে যাওয়া বাবার সন্ধান পেলেন সন্তানরা। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের বিয়ানীবাজারে।

মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী বছরে ব্যবসার উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি হাবিবুর রহমান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেছেন সন্তানরা। কিন্তু কোথাও তাঁর হদিস মিলেনি। স্মৃতি লালন করেই তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন ২০০০ সালে। এভাবেই কেটে গেছে দীর্ঘ প্রায় ৪৮ বছর।

সন্তানরাও এতদিন বাবাকে ফিরে পাওয়ার জন্য বহু খুঁজেছেন। তাঁরা সন্ধান না পেয়ে সন্তানদের তাদের দাদা হারিয়ে যাওয়ার কাহিনী শুনিয়েছেন। হারিয়ে যাওয়ার সময় ৪০ দিনের রেখে যাওয়া ছোট ছেলের সংসারেও হাবিবুর রহমানের দুই নাতি।

অন্য ছেলেদের ঘরেও নাতি-নাতনি রয়েছে। নাতি-নাতনি ও নাতবৌরাও দাদা হারিয়ে যাওয়ার কাহিনী শুনেছেন। বিয়ানীবাজারের বেজগ্রামে থাকতেন তার পরিবারের সদস্যরা, এখন বাড়ি বিয়ানীবাজার পৌরসভায়।

হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে মৌলভীবাজারের হযরত শাহব উদ্দিনের মাজারে থাকতেন হাবিবুর রহমান। অসুস্থ হয়ে গত এক যুগ থেকে বিছানায় পড়েছিলেন তিনি। মাসখানেক আগে খাট থেকে পড়ে তার ডান হাতের ভেঙ্গে গেলে তাঁকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সপ্তাহদিন আগে ভাঙ্গা হাতে ইনফেকশন দেখা দিলে চিকিৎসকরা তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুদিন আগে ভাঙ্গা হাতে অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অর্থ ও ওষুধ পথ্যের যোগান না থাকায় অস্ত্রপচার হয়নি।

ঘটনাটি হাবিবুর রহমান পাশের শয্যার একজনকে শেয়ার করেন। ওই ব্যক্তি হাবিবুর রহমানের সামগ্রিক বিষয় জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে সাহায্যর জন্য আবেদন করেন। এ ভিডিও দেখেন আমেরিকা প্রবাসী হাবিবুর রহমানের বড় ছেলের বউ।

এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের দেখালে পরিবারের সদস্য অনুমান করেন তিনিই হারিয়ে যাওয়া হাবিবুর রহমান। তবে হাবিবুর রহমান শুধু স্ত্রী জয়গুন নেছার নাম বলতে পারেন।

হাবিবুর রহমানের নাতবৌ ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে দাদা শ্বশুরকে নিয়ে শোনা গল্পের কথা মনে করেন এবং ভিডিওচিত্রটি শ্বশুরসহ পরিবারের সদস্যদের দেখান। এরপর তারা ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে হাবিবুর রহমানকে শনাক্ত করেন।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে ঘিরে রয়েছেন।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর