সিরাজদিখানে কাঠের সাঁকো ভেঙে জনদুর্ভোগ

সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ধলেশ্বরী নদীর উপর ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন কাঠের সাঁকোটিও ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে আছে বিগত চার মাস যাবত। পাকা সেতুর অভাবে নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়েই পারাপার হতো হাজারো মানুষ। কিন্ত বর্ষা মৌসুমে সেতুটি একেবারে ভেঙে গেলে কেউ আর খোঁজখবর নেয়নি বলে অভিযোগে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।

বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চান্দের চর, মধ্য চন্দের চর, চর পানিয়া সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জে ও স্কুল-কলেজে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতো এই নড়বড়ে কাঠের সাঁকোর উপর দিয়ে।অনেক পুরাতন এই কাঠের সাঁকোটিই ছিলও হাজারো মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। তবে সাঁকোটি বিগত চার মাস যাবত একেবারে ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে আছেন এখানকার মানুষজন।

ঢাকা মাওয়া মহা সড়ক থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরের এই এলাকাগুলোর মানুষের কাছে উন্নয়নের স্বপ্ন এখনো যেনও সোনারহরিণ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ শিক্ষক শিক্ষার্থীরা এই কাঠের সাঁকো দিয়ে পায়ে হেঁটে স্কুল কলেজ হাট বাজারে যাওয়া আসা করতো হাজারো মানুষ।

কৃষি নির্ভর এলাকায় সাঁকোটি একেবারে ভেঙে যাওয়ায় সবচাইতে বেশি ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন এখানকার কৃষকরা। বছরের পর বছর চরম ভোগান্তি সত্বেও এই একটি কাঠের সাঁকোতেই যাতায়াতের ভরসা ছিলো হাজারো মানুষের। কিন্ত সেটাও বিগত কয়েকমাস যাবত ভেঙে যাওয়ায় এখানকার গ্রাম এলাকার হাজারো মানুষের প্রানের দাবী এখন এখানে একটি পাকা সেতু নির্মান করে দেওয়ার ।

কলেজ পড়–য়া ছাত্র মোঃ রাসেল সহ আরো কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা আমাদের কাছে আসে ভোট নিতে। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেয় আমাদের যাতায়াতের পথে ব্রীজ নির্মাণ করে দেয়ার। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর গ্রামবাসীদের খোজ-খবর নেয় না।আমাদে এই কাঠের সাঁকো ভেঙে আছে প্রায় চারমাস যাবত এইটাই কারো নজরে পরলনা।

বালুচর ইউনিয়নের ২ নং ইউপি সদস্য আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন জানান, এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শত শত স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, গ্রামবাসী আসা যাওয়া করে। এখানে পাকা সেতু নির্মান হলে এলাকাবাসীর কষ্ট লাগব হবে এবং আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব ও অনেক আন্তরিক এই কাঠের সাঁকো কে অনতিবিলম্বে পাকাব্রীজে পরিণত করতে।

মুন্সীগঞ্জ ১-আসনের সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরী এমপি জানান, সেতু অলরেডি টেন্ডার হয়ে গেছে আশাকরি খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সেতুর কাজ ধরতে পারবো।সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ জানান, সাঁকোটির কথা আমি শুনেছি। আসলে সাঁকোটি পি আই ও অফিস থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই সেতুর কাজ আরম্ভ হবে।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর