স্বামীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে নদী সাঁতরে থানায় গৃহবধূ

মাঘের শীতে বাঘে কান্দে। আর এই মাঘের শীতে রাত ১২টা। মানুষ যখন লেপ-কম্বল মুড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। ঠিক তখনই এক নারী ভিজা শরীর নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে থানায় এসে হাজির। থানার ওসি মনিরুজ্জামান এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়লেন। ঘটনা কি জিজ্ঞাসা করতেই ওসি জানতে পারলেন ওই নারী স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে জীবন বাঁচাতে শীতের রাতে নদী সাঁতরে ছুটে এসেছেন থানায়।

জানা গেছে, ৬ বছর আগে বিরামপুর উপজেলার বড় বাইলশিরা গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে কামরুন্নাহার রিনার সঙ্গে প্রস্তমপুর গ্রামের রায়হান কবীরের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৪ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামী রায়হান কবীর প্রায়ই স্ত্রী রিনাকে মারধর করত। গতকাল বৃহস্পতিবার লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করলে স্বামীর বাড়ি থেকে রাত ১২টায় শাখা যমুনা নদী সাঁতরে পার হয়ে বিরামপুর থানায় এসে হাজির হয় স্ত্রী রিনা।

থানার ওসি মনিরুজ্জামান তাৎক্ষণিক নারী পুলিশের নিকট থেকে শুকনো পোশাক ও কম্বল নিয়ে ওই নারীকে দিয়ে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করেন। রাতেই পুলিশ পাঠিয়ে স্বামী রায়হানকে আটক করে নিয়ে আসেন। পুলিশ ওই নারীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

এ ব্যাপারে আজ শুক্রবার বিকেলে থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, রিনার সংসার ঠিক রাখার লক্ষ্যে বিষয়টি উভয়পক্ষ নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে। তবে নির্যাতিতা রিনা লিখিত অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আটক স্বামী রায়হান থানা হাজতে রয়েছে। রাতের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হলে শনিবার মামলা দিয়ে তাকে কোটে চালান দেওয়া হবে।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর