রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিশেষ আদালতের দেয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক জেনারেলে (অব.) পারভেজ মোশাররফ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সংবিধানের ৬ ধারার অধীনে তার বিরুদ্ধে দেয়া বিশেষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এ আবেদন করেন তিনি।
আবেদনে সাবেক সামরিক শাসক বিশেষ আদালতের রায় বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। লাহোর হাইকোর্ট এ বিশেষ আদালতকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করার একদিনের মাথায় এ আপিল করলেন তিনি।
২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিচারকদের দ্বিধাবিভক্ত রায়ে একটি বিশেষ আদালত পারভেজ মোশাররফকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেন। পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের কোনও সামরিক শাসককে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়া হয়।
আপিলে সাবেক সেনাপ্রধান দাবি করেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে ১৮৯৮ সালে দণ্ডবিধি অনুসারে যেহেতু এই বিচার হয়েছে তাই বিশেষ আদালতের রায় গ্রহণযোগ্য না। আবেদনে মোশাররফ আরও উল্লেখ করেছেন, আদালত উপযুক্ত যে ব্যবস্থা নেবেন তা তিনি মেনে নেবেন।
এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর ইসলামাবাদের বিশেষ আদালত সাবেক পাক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেন এবং সর্বোচ্চ সাজার আদেশ দেন।
২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন পারভেজ মোশাররফ। রাষ্ট্রদ্রোহ, জরুরি অবস্থা জারি, বেআইনি উপায়ে বিচারপতি বরখাস্ত, বেনজির ভুট্টো হত্যা এবং লাল মসজিদ তল্লাশি অভিযান-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় পলাতক রয়েছেন পারভেজ মোশাররফ।
২০১৩ সালে পাকিস্তান মুসলিম লীগ ক্ষমতায় আসলে মোশাররফের বিরুদ্ধে ‘উচ্চ দেশদ্রোহী’ মামলা করা হয় এবং ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ তাকে এ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
বার্তাবাজার/এমকে