দেশব্যাপী ধর্ষণের প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন

দেশব্যাপী অব্যাহতভাবে নারী শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের( জাবি) সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন রাস্তায় ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে নেতাকর্মীরা, সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান। পুলিশকে আরো আন্তরিক হয়ে এসব ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখাতে আহ্বান জানান বক্তারা। সেই সাথে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানান বক্তারা।

শামসুজ্জামান সায়েমের সঞ্চালনায় ছাত্র অধিকার পরিষদের অাহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান বলেন, প্রতিবছর ধর্ষনের রেকর্ড বেড়েই চলছে, গতবছর ৬ ঘন্টায় ১জন ধর্ষিত হয়েছে,কিন্তু দুঃখের বিষয় অামরা কোন বিচার পাই নি।দেশের বিচার ব্যবস্হা দূর্বলতার কারণে এদেশের ক্যন্টেমেন্টে ধর্ষণ হয়, স্কুলে ধর্ষণ হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণ হয়।

গ্রাম থেকে শুরু করে শহর বিশ্ববিদ্যালয় কোন স্হানেই নারীদের জন্য নিরাপত্তা করতে পারেননি এদেশের সরকার।অামাদের ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সামাজিক অান্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাদের বয়কটের মাধ্যমে সমাজ থেকে বের করে দিতে হবে এবং দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে ধর্ষকদের কালো থাবা থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হবে।

এসময় অারো বক্তব্য দেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য ইকবাল হোসাইন,ফয়সাল মাহমুদ সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য,ধর্ষণের তালিকায় ৪০তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে প্রায় ১০ জন ধর্ষণের শিকার হন।মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সলিশ কেন্দ্র (আসক) এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এক হাজার ৪১৩জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন৷ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ৭৩২জন৷

অপরদিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭৬জনকে৷ আর আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ১০জন নারী৷ যৌন হয়ানারীর শিকার হয়েছেন ২৫৮ জন নারী৷ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ১৭০ জন৷

২০১৯ যৌন হয়রানীর শিকার ১৮ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন৷ প্রতিবাদ করতে গিয়ে চারজন নারীসহ ১৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন৷ যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৪৪ পুরুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন৷

গত বছর যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৬৭ জন নারী৷ তাদের মধ্যে নির্যাতনে নিহত হন ৯৬ জন এবং আত্মহত্যা করেন তিনজন৷

আর পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ৪২৩ জন নারী৷২০০ জন নারী তাদের স্বামীর হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন৷ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ১৭৩ জন৷

বার্তাবাজার/এইচ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর