ময়মনসিংহে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী ও মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম শাহিন (৪৮) নামের এক ব্যাক্রি বিরুদ্ধে। এ ঘটনা বড় মেয়ে দেখে ফেলায় তাকেও হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। 
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার খাগডহর ইউনিয়নের ঘুন্টি ফকিরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, শাহিনের স্ত্রী রুমা আক্তার (৩৮) ও মেয়ে নাফিয়া আক্তার (১২)। আহত বড় মেয়ে লাবণ্যকে (২০) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২৫ বছর আগে ভালোবেসে ঘর বেধে ছিলেন শফিকুল ও রুমা দম্পতি। দুই মেয়ে নিয়ে ভালোই কাটছিলো তাদের সংসার। শফিকুলের কাঠের ব্যবসা থাকলেও, কয়েক বছর ধরে সে বেকার। বছর খানেক আগে বড় মেয়ে লাবল্যের বিয়ে হয়েছে। দুপুরে মা অসুস্থতার খবরে বাড়ি আসে সে। বিকেল বেলায় হঠাৎ করে লাবণ্যের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসেন। 
ঘরের ভেতর ৪র্থ শ্রেনী পড়ুয়া নাফিয়াকে বিছানায় ও বাথরুমের ভেতর রুমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায় শাহিন। লাবণ্য এগিয়ে গেলে তাকেও হত্যার চেষ্টা করলে চিৎকার করে সে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফিয়া ও রুমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকায় নম্র ভদ্র হিসেবে পরিচিত শাহিনের এমন কর্মকাণ্ডে হতবাক এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব এবং ক্রাইমসিনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং পৌছে আলামত সংগ্রহ করেন।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহেই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গলায় শ্বাসরোধে আঘাতেরচিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে, হত্যার মোটিভ এবং আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
বার্তাবাজার/এইচ.আর