বিধি সম্মত নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে সর্বনিম্ন রেট না দিয়েও হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের পথ্য সরবরাহকারির কাজ পেতে অনৈতিক চাপ দিয়ে আসছে বগুড়ার এক প্রভাবশালী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
এ ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প.প.কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদেরের হাড়গোর ভাংগাসহ অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রবিন ট্রেডিং হাউজের কর্ণধার আওয়ামীলীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খান রবিনের বিরুদ্ধে।
এ হুমকী ও অনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরীসহ জীবনের নিরাপত্তা বিধান নিয়ে প্রশাসনের সহযোগীতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
১৫ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেয় উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদের।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগীদের মানসম্মত খাদ্যের জন্য পথ্য সরবরাহের কাজে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের অনুকুলে গত ৬ অক্টোবর দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। নিয়ম অনুযায়ি দরপত্র জমা ও খোলা হয় ২৮ অক্টোবর। এ দরপত্রে মের্সাস আলম এন্টারপ্রাইজ প্রো. নুরে আলম সানি, শেরপুর, বগুড়া), শেখ এন্টারপ্রাইজ (প্রো. এজাজুল হক ডনেল, বগুড়া মালতীনগর) ও প্রভাবশালী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রবিন ট্রেডিং হাউজ( প্রো. রফি নেওয়াজ খান রবিন, খান মার্কেট, বগুড়া) অংশ গ্রহন করে। পথ্য সরবরাহে নিময়মানুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বগুড়ার শেখ এন্টারপ্রাইজের পক্ষে এজাজুল হক ডনেল নির্বাচিত হয়।
সংবাদ পেয়ে বগুড়ার ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রবিন ট্রেডিং হাউজের কর্ণধার প্রভাবশালী নেতা রফি নেওয়াজ খান রবিন গত ১২ জানুয়ারি দুপুর ১২.৪০ মিনিটে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য প.প. কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদেরকে ওই পথ্য সরবরাহের কাজ পেতে অনৈতিক চাপ দেয়। এসময় ডা. আব্দুল কাদের নিয়মনীতির কথা বললে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রধান রফি নেওয়াজ খান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার হাড়গোর ভেঙে ফেলাসহ নানা ভয়ভীতির হুমকীও দেয়। রফি নেওয়াজ খান রবিন বগুড়া সদর আওয়ামীলীগের সভাপতি, গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি বলে জানা যায়।
তবে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রভাবশালী নেতার এধরণের অনৈতিক চাপ ও হুমকীতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই ভূক্তভোগী উপজেলা স্বাস্থ্য প.প. কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদের।
এঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি শেরপুর থানায় জিডি নং ৬০৩/২০২০ দায়েরসহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। সংবাদ সম্মেলনকালে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মোকছেদা খাতুন, ডা. নাজনীন আকতার, ডা. সাজিদ হাসান লিংকন, দন্ত সার্জন ডা. আবু হাসান, ডা. আরিফা মৌসুমীসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বার্তাবাজার/এমকে