সড়কের সংস্কার নেই, দুর্ভোগে চলাচল

পিচ ঢালা রাস্তা জুড়ে খানাখন্দ। উঠে গেছে কনক্রিট। ইটের কোয়া উঠে মাটিতে গর্ত হয়ে গেছে। বেহাল সড়ক দিয়েই বালু ঘাট থেকে বালু বোঝাই ট্রাকসহ অন্যান্য যান প্রতিনিয়ত চলাচল করে। সনাতন ধর্মাবলম্বিদের অষ্টমী স্নান বা পূণ্যস্নানের ঘাটে যেতে চরম বিড়ম্বনার শিখার হতে হয় প্রতিনিয়ত। বেহাল সড়কটি ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জের একটি ইউনিয়নের।

উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়নের লাটিয়ামারি বাজার ঘাটে ব্রা‏‏হ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মালম্বিদের অষ্টমি স্নান ও বা পূণ্যস্নান উৎসবে পূণ্যার্থীদের ঢল নামে। ব্র‏হ্মপুত্র নদে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি গত বিএনপি জোট সরকার আমলে পাকা করা হয়। রাজীবপুর বাজার থেকে লাটিয়ামারি পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিপ্তর (এলজিইডি)।

ছবি- বার্তা বাজার

কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে সড়কটিতে সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে। সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির স্থানে স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে। সরে গেছে দু’পাশের মাটিসহ কার্পেটিং। দীর্ঘ দিনেও সংষ্কার না হওয়ায় সড়কের ইটের কোয়া উঠে মাটিতে গর্ত হয়ে গেছে। ওই অবস্থায় সড়কটি দিয়ে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে।

ছবি- বার্তা বাজার

উপজেলার সবজি ভান্ডার হিসেবে খ্যাত রাজীবপুরের প্রায় কয়েক গ্রামের মানুষ সড়কটি দিয়ে তাদের উৎপাদিত সবজি বাজারে নিয়ে আসে। পাইকাররা গাড়ি বোঝাই করে উৎপাদিত সবজি নিয়ে যায় বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থা থাকায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। শুধু তাই নয় লাটিয়ামারী ঘাট থেকে প্রতিদিন বালু বোঝাই লড়ি ও ট্রাক চলাচল করে। বেহাল সড়কে বালু বোঝাই লড়ি সড়কটিকে আরো বেহাল করে দিচ্ছে। নির্মাণের পর থেকে সড়কটিতে সংস্কারের ছোঁয়া না লাগায় সড়কটিতে দিয়ে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগের সীমা নেই।

ছবি- বার্তা বাজার

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা, গত কয়েক বছর আগে আড়াই কিলোমিটার ওই সড়কের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। একজন ঠিকাদার সড়কটির নির্মান কাজ পায়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির নির্মাণ কাজ করেনি। ওই অবস্থায় রাস্তার কাজটি বাতিল হয়ে যায়।

রাজীবপুরের ভাটিরচর নওপাড়া গ্রামের আবদুল হামিদ বলেন, সড়কটি নির্মাণের পর আর সংস্কার করা হয়। এখন পাকা সড়কটি নিশ্চি‎হ্ন হতে চলেছে। এমন বেহাল সড়ক খুব কমই রয়েছে। কিন্তু এ সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। গ্রামের আবদুল মতিন বলেণ, সড়কটি কি আদৌ সংষ্কার হবে কী না তা নিয়ে তাদের শংসয় রয়েছে।’এলাকার মো. শাহীন আলম বলেন, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের বেহাল অবস্থা থাকলেও বিষয়টির দিকে কারো দৃষ্টি নেই। দ্রুত সড়কটির সংস্কার করে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগের হাত থেকে মুক্তির দাবি জানান তিনি।

রাজীবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একে.এম মুদাব্বিরুল ইসলাম বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেহাল এ সড়কটি দিয়ে মানুষের চলাচল খুব কষ্টকর হয়ে উঠেছে। সড়কটি সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বহুবার তিনি বলেছেন।

এলজিইডির উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কটি সংস্কার করার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় একবার। কিন্তু ঠিকাদার কাজ না করায় সেটা বাতিল হয়। ফের সড়কটির সংস্কারের জন্য ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই সড়কটির সংস্কার কাজ করা হবে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর