নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুশুরী ও দক্ষিণবাগ নামে দুটি গ্রাম রয়েছে। ওই দুটি গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই তাবিজ তৈরির কাজের সঙ্গে জড়িত। প্রাচীন কালের পেশাটি এখনও ধরে রেখেছেন তারা। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও এখনও তারা পুরনো সেই পেশায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন।
দুুটি গ্রামের প্রায় ২শ পরিবার এখন এ পেশার সঙ্গে জড়িত। তাবিজ তৈরির কাজে নারী-পুরুষদের পাশাপাশি শিশু-কিশোররাও জড়িত। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশু-কিশোররা এ কাজে ব্যস্ত সময় কাটায়। নিখুত ভাবে তৈরি করা হয় এ তাবিজ। তাবিজ সাধারনত বিভিন্ন ঝাড়-ফুসহ বিভিন্ন কাজে লেগে থাকে।
প্রতি মাসে এক একটি পরিবার প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার তাবিজ তৈরি করেন। সে হিসেবে ওই দুটি গ্রামে তাবিজ তৈরি হয় প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ। পাইকাররা প্রতি মাসের শেষের দিকে এসে তাবিজ ক্রয় করে নিয়ে যায়। কথা হয় দক্ষিণবাগ এলাকার তাবিজ তৈরির কারিগর মৌসুমী মালা, বর্ষা চন্দ্র দাস, ভবেশ চন্দ্র দাস, শঙ্কর সরকারসহ আরো অনেনের সঙ্গে।

তারা জানান, বিভিন্ন প্রকার ও বিভিন্ন ধরনের তাবিজ রয়েছে। এর মধ্যে লোহার তাবিজ সব চেয়ে কম মুল্যে। এছাড়া পিতল, রুপা ও স্ব^র্ণের তাবিজ আলাদা অর্ডারের মাধ্যমে তৈরি করা হয়ে থাকে। তাবিজ বিক্রি করা হয় পুন হিসেবে। প্রতি পুনে ৮০ পিছ তাবিজ থাকে। আর প্রতি পুন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পাইকারী বিক্রি করা হয়।
সে হিসেবে প্রতিমাসে তাবিজ বিক্রি হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার। তাবিজ সাধারনত দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ বিদেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে পাকিস্থান ও ভারতে তাবিজের চাহিদা অনেকটা বেশি। পাইকাররা এখান থেকে তাবিজ ক্রয় করে বিভিন্ন মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বিক্রি করে থাকেন।
বর্তমানে এ পেশাটা লাভজনক হওয়ায় হিন্দু পরিবারদের পাশাপাশি মুসলমান পরিবারও এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। তাবিজ তৈরির কারিগররা আরো জানায়, যুগ যুগ ধরে তাদের বাপ-দাদারা এ পেশায় জড়িত ছিল। তারাও এ পেশাটি ধরে রেখেছেন। তাবিজের দাম হিসেবে এর খরচ বর্তমানে অনেকটা বেশি। তারপরও তাবিজ তৈরি করে কারিগররা অনেকটা লাভের মুখে রয়েছেন।
তবে তাদের পুজির অভাব। সরকারী ভাবে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করলে এ পেশাটাকে আরো লাভজনক অবস্থায় নিয়ে যেতে সম্ভব হতো। শত বছর বয়সী তাবিজ কারিগর শৈতা রানি দাস বলেন, ”বাবারে আমার শশুর-শাশুরী এ পেশায় জড়িত আছিলো, এহন আমিও ওনাদের ঐতিয্য ধইরা রাখছি। আমার ছেলে-মেয়ে, নাতিন-নাত্নীকেও কইছি তোমরা এই পেশা ধইরা রাখবা।” এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, দুটি গ্রামের অনেকেই তাবিজ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন শুনেছি।
এখন তাবিজ তৈরির শিল্পটা টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এছাড়া কথা বলে তাদের কি কি সুযোগ-সুবিধা দেয়া যায় সে ব্যপারেও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বার্তাবাজার/এমকে