ছাত্রত্ব হারিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা

ফেল করার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী ছাত্রত্ব হারিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তৌকির মাহফুজ মাসুদ।

জানা যায়, প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তির অভিযোগ এবং ৪ বছরের স্নাতক পড়ছেন ৯ বছর ধরে, সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গত ২৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয়।

এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর গত ২৭ নভেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস এ বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। সেখানে দেখা যায়, ১০১০১০৯ নং রোলের এ শিক্ষার্থী তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হতে পারেন নি। কিন্তু সে তৃতীয় বর্ষে অনুত্তীর্ণ হওয়ার পরেও চতুর্থ বর্ষের সাথে তিনি পরীক্ষা দেন।

প্রসঙ্গত, তৌকির মাহফুজ মাসুদ ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হলেও স্নাতক চতুর্থবর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে দিয়েছেন। ২০১৭ সনে অনুষ্ঠিত ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষ স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০১৫ এর ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ১০৬ নম্বর কোর্সে অকৃতকার্য হয়েছেন। পরবর্তীতে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ বর্ষ মান উন্নয়ন (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০১৮ সনে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তৌকির মাহফুজ, এ মান উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি এবং ফলাফল পত্রে তার নামও পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষাবর্ষের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী যদি কোনো শিক্ষার্থী মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে, তবে তাকে আর মানোন্নয়ন পরীক্ষা অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হবে না। পরবর্তীতে সে বিশেষ মান উন্নয়নের জন্য আবেদন করলেও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একাডেমিক কাউন্সিলে তা গৃহীত হয়নি।

এ বিষয়ে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাইদুজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফলাফলের এ ভুলটি বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটি এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের কারো চোখেই পড়েনি। ভুলক্রমে তার তৃতীয় বর্ষের ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও কৃতকার্য দেখানো হয়েছে। পরে বিভাগ তা সংশোধন করে দিলে আমরা চূড়ান্তভাবে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করি।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, তৌকির মাহফুজ মাসুদ প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় সিজিপিএ ২.২৯ নম্বর পায় ও ১০৬ নম্বর কোর্সে অকৃতকার্য হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে সিজিপিএ পায় যথাক্রমে ২.৫৩ ও ২.২৮। তিন বর্ষ মিলিয়ে পায় ২.৩৭। অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তৃতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজন ২.৫০ সিজিপিএ। পর্যাপ্ত ফলাফল না পাওয়ায় সে তৃতীয় বর্ষে অকৃতকার্য হয়। অধ্যাদেশ অনুযায়ী তৃতীয় বর্ষেই তার ছাত্রত্ব চলে গেছে।

এ সম্পর্কে ইংরেজি বিভাগের সভাপতি ড. সালমা সুলতানা বলেন, অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তার ছাত্রত্ব নেই। ভুলক্রমে রেজাল্টে অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও কৃতকার্য দেখানো হয়েছে। বিভাগ তা সংশোধন করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম কখনোই তামাদি হবেনা। যখনই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে তখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বার্তাবাজার/এইচ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর