২৫, জুন, ২০১৮, সোমবার | | ১১ শাওয়াল ১৪৩৯

ঈদের আনন্দ নেই, বজ্রপাতে নিহত নাবিলের পরিবারে!

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৮

ঈদের আনন্দ নেই, বজ্রপাতে নিহত নাবিলের পরিবারে!

এম এ হান্নানঃসিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের ছয়আনিপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে নিহত কলেজ ছাত্র কিশোর নাবিলের পরিবারে এবার ঈদের আনন্দ নেই। ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। দেশব্যাপী আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু, ঈদ ঘনিয়ে আসলেও নাবিলের নানা স্মৃতি কাতর করে তুলছে পরিবারের সদস্যদেরকে। প্রতিবেদক সরজমিনে গিয়ে দেখে পরিবারটিতে নেই কোনো ঈদের আমেজ। প্রায় দেড়মাস পার হয়ে গেলেও পরিবারটিতে এখনো শোকের ছায়া বিরাজ করছে। পরিবারের সবার ছোট আদরের সেই নাবিলকে হারানোর ব্যাথা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি কেউ। হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় নিহত নাবিলের
পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। ছেলেকে হারিয়ে পরিবারের লোকেরা এখন
পাগলপ্রায় ।নাবিল না থাকায় এবার ঈদের নতুন জামা- কাপড়ও কেনেনি তারা। বাবা-মা শুধুই নাবিলের স্মৃতিকেই খুজে বেড়াচ্ছেন সবখানে।নাবিলকে বাড়ির পাশেই নিজ পারিবারিক কবরস্থানেই সমাহিত করা হয়েছে।প্রতিবেশীরা জানায় এখনো প্রতিদিন সন্তানের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অঝোর ধারায় কান্না করতে দেখা যায় নাবিলের মা-বাবাকে। ভাগ্যের এই লিলা খেলায় মা-বাবার আগেই অকালেই পরপারে পাড়ি জমিয়েছে কোলের সন্তান নাবিল।
নাবিলের মা এই প্রতিবেদককে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, এই রোজায় কিভাবে রোজা রাখবে, ঈদ কিভাবে উদযাপন করবে, কি কি খাবে সব পরিকল্পনা আগে থেকেই করেছিল আমার বুকের ধন।কিন্তু শবে বরাতের আগেই আমাদেরকে ছেড়ে
চলে গেলো না ফেরার দেশে । তিনি আরো বলেন, উঠতে বসতে সবখানে শুধু নাবিলের কথাই মনে হয়। আর হবেই না কেন,নাবিলের স্মৃতি পুরো বাড়ি জুড়েই। এবার ঈদে নাবিল সুন্দর টুপি,সাদা পাঞ্জাবী পরে ঈদের নামাজ পড়তে চেয়েছিল। কিন্তু আমার কলিজার টুকরো সন্তান নাবিলের সে আশা আর পূরণ হলো না। এ বলেই ডুকরে কেঁদে উঠলেন নাবিলের মা। নাবিলের বাবা বলেন, আমার আবার কিসের ঈদ? আমার সন্তান নাই, আমার ঈদও নাই। এ কথা বলতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। এ ব্যাপারে নাবিলের মেজো ভাই তরুণ সাংবাদিক নিহাল খান এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের তিন ভাই এর মধ্যে সবার আদরের ছিল নাবিল। নাবিল ছিল আমার বন্ধুর মত। আমি বাড়িতে আসলেই আমাদেরকে নিয়ে সবসময় উচ্ছাসে মেতে থাকতো নাবিল।এখন নাবিল নেই তাই পুরা বাড়িই ফাকা ফাকা লাগে । প্রতিবার ঈদেই এক সাথেই আমরা ঈদের নামাজ পড়ি কিন্তু আর কোনদিন একসাথে ঈদের নামাজ পড়তে পারব না।নাবিল আমাদের কে ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেলো না ফেরার দেশে। নাবিলের শুণ্যতা কিছুতেই পূরণের নয়। নাবিলের বড় ভাই তরুণ নাট্যকর্মী নাহিন বলেন, নাবিল আমার খুব আদরের ছিল। মায়ের হাতের রান্না খুব পছন্দ করতো।তিনি আরো বলেন, আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ও মেসি ভক্ত ছিল নাবিল।বিশ্বকাপের প্রত্যেকটি খেলাই নাবিলের সাথে হৈ-হুল্লোড় করে দেখতাম।এবার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় নাবিলকে খুবই মিস করব। প্রতি ঈদে যে নাবিল,হাসি আনন্দে মাতিয়ে রাখতো পরিবারের সবাইকে । অথচ,এই প্রথম নাবিলকে ছাড়াই নিরানন্দে ঈদ করতে হবে পরিবারকে ।এবার পরিবারের ঈদের দিন কাটবে শুধুই চোখের জ্বলে। উল্লেখ্য, গত ২৯ শে এপ্রিল মর্মান্তিক বজ্রপাতে অকালেই প্রাণ হারায় ফুটফুটে কিশোর ও ছাত্রলীগ এর একনিষ্ঠকর্মী নাবিল (১৭)। তার এই অকাল মৃত্যুতে ঈদের আগেই বিষাদপুর্ণ হয়ে গেলো পরিবারের সবার ঈদ আনন্দ। আর শুধু পরিবারই নয়, বন্ধুবান্ধব প্রতিবেশীরাও তাদের প্রিয় নাবিলকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে।