জবিতে মাইগ্রেশনের নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ, গ্রেফতার-১

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী থেকে সাবজেক্ট পরিবর্তনের (মাইগ্রেশন) নামে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাকারীয়া ইসলাম একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

এ বিষয়ে সোমবার রাতেই থানায় মামলা হলে কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী ‍আজিজুল খান রাফির গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আলম।

অভিযুক্তরা হলেন তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের সাবেক জিএস জাহাঙ্গীর সিকদার ঝোটনের ছেলে সায়েম সিকদার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজ বিভাগের ১০ম ব্যাচের বহিষ্কৃত ছাত্র সামিউল তাছাহাব শিশির এবং রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ‍আজিজুল খান রাফি, শোভন, হিমেল ও সৈকত।

অভিযোগ পত্র ও ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জানা যায়, জাকারীয়া ইসলাম ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সাবজেক্ট পরিবর্তন (মাইগ্রেশন) করে আইন বিভাগে ভর্তি করে দেওয়ার নাম করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে অভিযুক্তরা। কিন্তু জাকারীয়া ইসলাম পরিবারের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলে এবং সাবজেক্ট পরিবর্তনের বিষয়টি অটোমেটিক জানতে পারে। ফলে শিক্ষার্থী চাঁদা দেওয়ার প্রস্তাবটি প্রত্যাখান করায় অভিযুক্তরা তাকে ভয়-ভীতি ও জোর করে উঠিয়ে নেয়ার হুমকি দেয়।
সূত্রে আরও জানা যায়, ভুক্তভোগী মাইগ্রেশনের প্রস্তাবটি প্রত্যাখান করে দেওয়ার পরও ৮০ হাজার টাকা খরচ করে হয়েছে বলে দাবি করে অভিযুক্তরা।

জাকারীয়া ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্তরা আমাকে দুই বার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। মঙ্গলবারের (১৪ জানুয়ারি) মধ্যে দাবিকৃত ৮০ হাজার টাকা না দিলে অন্য জামেলায় ফাঁসিয়ে আরও বেশি টাকা আদায়ের হুমকি দেয়। সামিউল তাছাহাব শিশির ও রাফি সোমবার (১৩ জানুয়ারি) আমাকে তুলে নেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসেও আসে।’

এবিষয়ে সায়েম শিকদারকে ফোন দিলে ফোনের অপরপাশ থেকে এক মহিলার কণ্ঠে সায়েম সিকদারের নাম্বার নয় বলে জানান।
এবিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জাকারীয়া ইসলাম অভিযোগ দিয়েছে এবং সে থানায় মামলা করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা পুলিশকে বলেছি।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সামিউল তাছাহাব শিশিরের বিষয়ে জবি প্রক্টর বলেন, যেহেতু সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত। তাই তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু করার নেই। তবে তার ব্যাপারে যেকোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমরা পুলিশকে সহযোগিতা করবো।
কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আলম বলেন, থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী। তারই প্রেক্ষিতে রাফি নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

বার্তাবাজার/এইচ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর