২১, নভেম্বর, ২০১৮, বুধবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

কক্সবাজারে ভারি বর্ষণ ও উজান ঢলে জনজীবনে দূর্ভোগ

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৮

কক্সবাজারে ভারি বর্ষণ ও উজান ঢলে জনজীবনে দূর্ভোগ

জাবেদ ইকবাল চৌধুরী , টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : টানা ৫দিন ধরে ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বেশ কিছু বসতঘর সহ ফসলী জমির ক্ষেত ও চিংড়ি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ডুবে যাওয়ায় গাড়ী চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

ভারী বর্ষনের কারনে পাহাড় ধ্বসের আশংকায় পাহাড়ে ঝুকিপুর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার রাতে কক্সবাজার শহরের পার্শবর্তী পাহাড়ী এলাকা থেকে ঝুকিপুর্ণ বসবাসকারী সাড়ে ৩ শত জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে
নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, গত ৫দিন ধরে চলছে টানা বর্ষন। সেইসাথে কক্সবাজার জেলার মাতামুহুরী, বাঁকখালী ও রেজু নদী এবং ঈদগাঁও খালে উজান থেকে নেমে আসে পাহাড়ি ঢল।  সাগরে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এতে জেলার নি¤œাঞ্চল সহ অর্ধ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলার চকরিয়া, রামু, টেকনাফ,
মহেশখালী ও কক্সবাজার সদর উপজেলার বেশ কিছু বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে
গেছে। মাছের ঘের ও চিংড়ি প্রকল্পের কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। পানিতে ডুবে গেছে আন্ত: সড়ক গুলো।

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রামু অংশে কয়েকটি স্থানে ডুবে যাওয়ায় গাড়ী চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভারী বর্ষনের কারনে পাহাড় ধ্বসের আশংকায় পাহাড়ে ঝুকিপুর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার রাতে কক্সবাজার শহরের পার্শবর্তী পাহাড়ী এলাকা থেকে অতিঝুকিপুর্ণ বসবাসকারী সাড়ে ৩শত জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ভারী বর্ষনের কারনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকার পাহাড় বা পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৬ জন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ৬টি মোবাইলটিম গঠন করা হয়েছে। তারা গতকাল বুধবার রাত থেকে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের
সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে। রাতে সাড়ে ৩শত জনকে কক্সবাজার শহরে ৬টি
আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানালেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন।

এদিকে পাহাড়ী ঢলে ও বন্যায় চকরিয়া উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা সহ ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ১৫ হাজার পরিবারের ৫০ হাজারের অধিক লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলে জনান এ চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দিন মোহাম্মদ সীবলী নোমান।