বার্তাবাজারে সংবাদ প্রকাশ: ঘর পেল সেই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার আবুল হোসেনের পরিবারকে নিয়ে গত ১৬ অক্টোবর বার্তা বাজারে “পাকুন্দিয়ায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মানবেতার জীবন যাপন” শিরোনামে সংবাদ প্রচারিত হয়।

তারপর থেকেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ শুরু হয়।

আজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে সেই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে মধ্যে ঘড় তৈরির কাজ শুরু হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান বার্তা বাজারকে মুঠোফোনে জানান, যুদ্ধাহত ভাতার জন্য সহযোগীতা করিবেন। ঘরের কাজ শুরু হয়েছে। তবে তিনি বয়স্ক ভাতার যাচাই বাচাইয়ের জন্য সেখানে যেতে পারেননি।

১৬ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদঃ

পাকুন্দিয়ায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মানবেতার জীবন যাপন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ষাইটকাহন গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো : আবুল হোসেন। বাবা মৃত মো. আব্দুল হাই। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী শুনে এফ, এফ ভারত আগরতলা ট্রেনিং সেন্টার থেকে ২১ দিন ট্রেনিং নিয়ে ১৭-০৯-১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের অংশ গ্রহন করেন।

কমান্ডার মতিউর রহমান এবং প্লাটন কমান্ডার জালাল উদ্দিনের অধীনের মুক্তিযোদ্ধা (এফএফ) হিসেবে সুনামগঞ্জ, মোগলগঞ্জ, সিলেট, ভোলা সহ বিভিন্ন স্হানে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ১১ ই নভেম্বর ভোলায় সন্মোখ যোদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর মর্টার সেল এর আঘাতে ডান পায়ের গুড়ালির উপরিভাগের আঘাত প্রাপ্ত হয়ে জ্ঞান হারায় আবুল হোসেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতিস্বরূপ ২ সেক্টরের কর্নেল খালেদ মোশারফ (কমান্ডো) কর্তৃক স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ গ্রহণ। ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম উঠে আসাসহ লাল মুক্তিবার্তায় আবুল হোসেনের নাম যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা অর্ন্তভুক্তি হলেও উপজেলা পর্যায়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা গ্রেজেটভুক্ত হতে পারেননি তিনি।

ফলে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির আক্ষেপ নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয় তাঁকে। তাই সরকার কর্তৃক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন আবুল হোসেনের পরিবার। স্বামীর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও ভাতা প্রাপ্তির জন্যে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমেপ্লক্স, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস, উপজেলা সমাজ সেবা, জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়েও যেতে হয়েছে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন কে।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর