ঘন কুয়াশা: বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো

চলমান শৈত্যপ্রবাহের ভেতর রংপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চল কুয়াশায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। দেখা মিলছে না সূর্যের। আজ সোমবারও একই অবস্থা। দিনের শেষ বেলায় সূর্য উঁকি দিলেও হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

ঠাণ্ডায় মানুষের উপস্থিতি কমেছে রাস্তা-ঘাটে। সড়কে যান চলাচলে এসেছে ধীর গতি। কোথাও কোথাও ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও জ্বলতে দেখা গেছে গাড়ির হেডলাইট।

আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, আরো দুই-তিন দিন একই অবস্থা থাকতে পারে। এরপর থেকে হয়তো তাপমাত্রা বাড়তে পারে। শীত বেশি থাকায় প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শীতের তীব্রতা বাড়ায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। কনকনে শীতে স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কুয়াশা থাকায় সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল।

রংপুরের তিস্তা, ঘাঘট, দুধকুমার, যমুনেশ্বরী ও করতোয়া নদী তীরবর্তী অঞ্চলে শীতের কারণে বেড়েছে জনদুর্ভোগ। কনকনে শীতে কাজে বের হতে না পেরে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শীতের তীব্রতা আরো দুই-তিন দিন একই রকম থাকবে। এখন যে বাতাসের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে, তা ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে। ১৫ জানুয়ারি থেকে হয়তো তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে।

এদিকে, তীব্র শীতের কবল থেকে রক্ষায় রংপুরে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে জামপেয়ারা বেগম (৫৫) নামে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আগুনে দগ্ধ হয়ে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের রোকনিগঞ্জ কুঠিরপাড়া এলাকার জামপেয়ারা বেগম রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছিলেন। তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় পরের দিন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার মারা যান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামপেয়ারা বেগমের ছেলে আলমগীর হোসেন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা যায়, শীতের হাত থেকে রক্ষায় আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ৩২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন দুই শিশুসহ ৯ জন। এ নিয়ে গত ১৮ দিনে রংপুরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০ জনে।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর