চা-শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে যে কোন অবস্থায় চোরাই পথে দেশে চাপাতা আসা বন্ধ করতে হবে। এতে দেশীয় বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।এক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরো বেশী নজরদারী বাড়ানোর আহবান জানিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি বলেছেন, যে কোন মূল্যে এদেশের চা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে।
সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে নিম্নমানের চা পাতা প্রবেশ করায় দেশীয় চা শিল্প আজ হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের চা বাগানগুলোতে উৎপাদন বাড়লেও দেশের চা শিল্প যে মূল্য পাওয়ার কথা তা পাচ্ছে না। দেশের বিশাল এ শিল্প-এর স্বার্থে চোরাই পথে চা পাতা আসা বন্ধে বিজিবিসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন-চা শিল্পের প্রাণ হচ্ছেন চা শ্রমিকরা। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। 
চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী দাওয়া বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা শ্রমিকদের ভোটাধিকার দিয়েছিলেন। তাই চা শ্রমিকরা যেমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত ভালবাসেন। তেমনি প্রধানমন্ত্রীও চা শ্রমিকদের ভালবাসেন। চা-শ্রমিকদের কথা মনযোগ সহকারে শোনেন। বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের আমলে চা শ্রমিকদের ভাগ্যের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নয়ন হয়েছে। চা শ্রমিক সন্তানরা শিক্ষিত হচ্ছে। বিসিএস ক্যাডার হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের তাদের চাকুরি হচ্ছে।
মন্ত্রী রোববার বিকাল ৪টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা বাগান নাট মন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বার্ষিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
সভায় অংশ নেওয়া কয়েক হাজার চা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন,চা বাগানের ভূমিতে কাগজেপত্রে শ্রমিকের নাম না থাকলেও একটানা কেউ ১২ বছরের বেশী সময়ধরে বসবাস করলে কেউ আপনাদের ভিটে থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে না। কোন বাগান কর্তৃপক্ষ চা শ্রমিকদের উচ্ছেদ করতে চাইলে আমাদের জানাবেন। আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নিব।
তিনি বলেন-চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার, প্রতিষ্ঠিত অধিকার। এটা নিশ্চিত করা হবে। আপনারা ভূমির মালিক হয়ে গেছেন। চা বাগান থেকে মদের কারখানা তুলে দেয়া হবে। চা শ্রমিকদের মজুরী অবশ্যই বৃদ্ধি করা হবে। শেখ হাসিনা চা শ্রমিকদের অত্যন্ত ভালবাসেন। চা শ্রমিকদের চুক্তি সম্পাদনে দীর্ঘসুত্রিতা যাতে না হয় সে ব্যাপারে আপনারা যত্নবান হবেন। বিদ্যালয়বিহীন চা বাগানে বিদ্যালয় করা হবে। সব শ্রমিকদের বাসস্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। চা শ্রমিকদের সকল দাবী দাওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাখনলাল কর্মকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি, কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব, বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান এম, শাহ আলম, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ইনডিজিনাস এন্ড ট্রাইবাল পিপলস প্রজেক্টের ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আলেক্সসিউস চিছাম, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল এর উপ পরিচালক নাহিদুল ইসলাম।
বার্ষিক সাধারণ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছলম ইকবাল মিলন, সাধারণ সম্পাদক এড. এএসএম আজাদুর রহমান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রেমসাগর হাজরা, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ, কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান, মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিদ্দেক আলী।

চা শ্রমিক নেতা সজল কৈরী ও মীনা রবিদাসের যৌথ পরিচালনায় সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক নেতা পংকজ কন্দ, বিজয় হাজরা, কমল চন্দ্র বুনার্জী প্রমুখ।
বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশের ৭টি ভ্যালীর সভাপতি-সম্পাদক, বাগান প ায়েত সভাপতি-সম্পাদক, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সহ কয়েক হাজার নারী-পুরুষ চা-শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো: শাহাব উদ্দিন এমপি। পরে ৭টি ভ্যালীর দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে ২৩০টি চা বাগানের প্রায় ৬ হাজার চা শ্রমিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবী দাওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রী একমত পোষণ করে আরো বলেন, ৩৬ টাকা থেকে বর্তমান মজুরি ১০২ টাকা করা হয়েছে। ১০২ টাকা যখন করা হয়েছে ৩০০ টাকা মজুরি করা হবে তা সময় সাপেক্ষ। এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ আলোচনা করা হবে।
সভায় বাগান মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আরো সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠার লক্ষ্যে চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবিসমূহ পূরণ ও তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সকলের সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধতা কামনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী।
বার্তাবাজার /এইচ.আর