মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার সাঈদ

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে আলোচনায় আসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ। ওই অভিযানের সময় দেশ ছাড়েন তিনি। ৩০ জানুয়ারির সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

এ নির্বাচনে তার স্ত্রী ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখীও প্রার্থী। সম্প্রতি দেশে ফিরে সাঈদ প্রার্থী হন। তবে সরকারের উচ্চ মহল থেকে সাড়া না পাওয়ায় আবার বিদেশে চলে গেছেন। তবে ওই ওয়ার্ডে ঠেলাগাড়ি প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাঈদের স্ত্রী ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখী।

তিনি বলেন, মমিনুল হক সাঈদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা সব মিথ্যা। সাঈদ শতভাগ ভালো মানুষ। সাঈদ আসলে
মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার। যতটুকু না হয়েছে, তার শতগুণ বেশি করে প্রচার করা হয়।

বৈশাখী বলেন, আমার ১৮ বছরের বিবাহিত জীবনে তাকে সবসময় অসাধারণ মানুষ হিসেবেই পেয়েছি। গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে। সবার বিপদে-আপদে ছুটে গেছেন। তার সঙ্গে যারা মিশেছে সবাই তাকে ভালো বলবে। নেতাকর্মী, ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ সবাই এ সাক্ষ্য দেবে।

ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি হয়তো স্বতন্ত্র নির্বাচন করছি। কিন্তু আওয়ামী লীগের বাইরে নয়। আমাদের রক্তে-মাংসে আওয়ামী লীগ। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমার স্বামী এই ওয়ার্ডকে ডিজিটাল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। নিরাপত্তার কারণে ছোটখাটো অপরাধও হতো না। কিন্তু গত চার মাসে তিনি না থাকায় সব বদলে গেছে।

পুরনো রূপে ফিরে যাচ্ছে। আমি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেব। যেসব কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, তা সমাপ্ত করব। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছি। পরিবেশ প্রতিকূল। সবটাই চ্যালেঞ্জ। সবকিছুই উল্টো।

এমন একটা অবস্থায় নিজের পক্ষে নিতে তো বেগ পেতেই হবে। তবে আস্তে আস্তে সব ঠিক হচ্ছে। এর পরও দলীয় নেতাকর্মীরা সমর্থন দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছে। সবাই উৎসাহ দিচ্ছে নির্বাচন করার জন্য।

ফারহানা বৈশাখী আরও বলেন, নারী-পুরুষ সবাই সমানতালে অংশ নিচ্ছে। জনগণই চাচ্ছে সাঈদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে যেন আমি নির্বাচন করি। সবার ভালোবাসার মূল্য দিতেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমার জন্ম বেড়ে ওঠা পড়াশোনা সবকিছুই এ এলাকায়।

আমি বিয়েও করেছি এ এলাকায়। এ এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক বন্ধ। সবাই যুগ যুগ ধরে আমাদের চেনে। তিনি বলেন, আমি নির্বাচনী মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকব। বাধা কিছু আসবে। তবে সব বাধা ঠেলেই সামনে এগিয়ে যাব। ব্যক্তিগত কারণে নয়, সবার আস্থা আর ভালোবাসার মূল্য দিতেই আমি মাঠে থাকব।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর