২১, নভেম্বর, ২০১৮, বুধবার | | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

কুটি তে মাদক ব্যবসার দায়ে ছাত্রলীগ নেতা বহিস্কার

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৮

কুটি তে মাদক ব্যবসার দায়ে ছাত্রলীগ নেতা বহিস্কার

ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলার কসবা থানাধীন কুটি ইউনিয়নে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দলীয় সাইনবোর্ড ব্যাবহার করে সর্বপ্রকার অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদকদ্রব্যের ব্যবসা থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী লালন, টেন্ডারবাজি এখন স্বপনের নিত্যদিনের কর্মসূচী বলা চলে। তিনি দিনকে রাত, আর রাতকে দিন বানিয়ে ছাড়ছে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীসহ দলের অনেকেরই। আর কোটিপতি হবার জন্যই তার এ সব প্রয়াশ বলে মনে করেন কুটিবাসী। জানাযায়, সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলাম স্বপন দলীয় তকমায় নিজের আখের গোছাতে মরিয়া। রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার ধান্দায় ছাত্রলীগের তকমা লাগিয়ে দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে অনৈতিক কর্মকান্ড, সন্ত্রাসী লালন পালন, টেন্ডারবাজিসহ মাদক দ্রব্য বিক্রয়ের মত জঘন্য কর্মকান্ড। ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে যুবসমাজকে ঠেলে দিচ্ছে মরণ নেশার ছোবলের ভয়াবহতার দিকে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতাসীন দলের বড় বড় নেতাদের নাম ভাঙ্গানো তার ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।তার অবৈধ কর্মকান্ড যেন দেখার কেউ নেই।

দিন দিন বাড়ছে তার ক্ষমতার প্রভাব। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই সব কিছু চলছে এমন অভিযোগ সর্বমহলে। কোন বিষয়ে তার হস্তক্ষেপ ছাড়া কোন কিছুই সম্ভব নয়। একাধিক সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম স্বপন তার ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু, রানা এবং অরজুন তার সব অবৈধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। মাইজখার, রামপুর, জাজিয়ারা সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে তার নিয়ন্ত্রণে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে মাদকের ব্যবসা। কেউ তার অবৈধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলেই খবর খারাপ হয়ে যায়, তার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়। তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের হামলা, মামলা সহ এলাকা ছাড়ার মত কর্মকান্ডের নজির রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয় না। এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাও যেন তার কথায় ওঠে বসে। এ যেন এক অদৃশ্য শক্তি। বেপরোয়া নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ভাবে যারা প্রতিবাদ করেন তাদের বিরুদ্ধেও অঘোষিত অবরোধ জারি করা হয়। সম্প্রতি সময়ে ওই ছাত্রলীগ নেতার ইয়াবা বিক্রি যেন ওপেন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকার যুব সমাজকে মাদকের মরণ নেশায় আক্রান্ত হয়ে বিপথগামী হয়ে পড়ছে। সরকারের মাদক বিরোধী অভিযান কে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে তার মাদক ব্যবসা চলমান থাকায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সরকারের মাদক বিরোধী কার্যক্রম । ছাত্রলীগের নামে চালাচ্ছে কারবার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বিষয়টি নতুন নতুন সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সভাপতির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্বপনের মাদক ব্যবসার ব্যাপারে আমার কাছে অনেকে অভিযোগ জানিয়েছেন, আমরা দলীয়ভাবে তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি। কিন্তু কারো কথা তোয়াক্কা না করে সে তার মাদকসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসায় নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অসহায় অনেক মেয়েকে সর্বনাশ করেছে। অনেকে লোক-লজ্জার ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও এখন তার বিরুদ্ধে অনেকে অভিযোগ করার বিষয় আমাদেরকে জানিয়েছে। কিন্ত পুলিশের কাছে অসহায়দের ঠাই মিলছে না বলে জানান তিনি।এলাকার একাধিক ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্মানী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সময় সে মারধর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ছাত্রলীগ নেতা স্বপনের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য র‍্যাব, মহাপরিচালক ও ব্রাহ্মনবাড়ীয়া পুলিশ সুপার মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কমনা করেছে ভুক্তভোগী সহ এলাকাবাসী। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী সাময়িক ভাবে ছাএলীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপনও যুগ্ন সম্পাদক শাওন কে বহিস্কার করেছে কসবা থানা ছাএলীগ। এই বিষয় কুটি ইউনিয়ন ছাএলীগ কলঙ্ক মুক্ত হয়ছে বলে জানিয়েছে নেতাকর্মীরা।