হুমকির মুখে চুয়াডাঙ্গার জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণিরা নিধন হচ্ছে শিকারির হাতে

অনাদি কাল থেকই মানুষ জীবন-জীবিকার জন্য গাছপালাসহ নানা প্রকার প্রাণীদের ব্যাবহার করে আসছে। মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, ঔষধসহ নানা প্রয়োজন মেটায় জীবজগৎ থেকেই। সেজন্য মানুষের টিকে থাকার মূল্যবান উপাদান হিসেবে জীববৈচিত্র বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ।

তাই বর্তমানে জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাওয়ায় তার বিরুপ প্রভাব পড়ছে দামুড়হুদাসহ এলাকার মানুষের উপর। নানা প্রতকুলতার কারনে দামুড়হুদাসহ আশপাশ এলাকার জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

আশঙ্কাজনকভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অপরিকল্পিতভাবে বাসস্থান নির্মান, বন-জঙ্গল উজাড়, খাদ্যের অভাব, কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অপরিমিত ব্যবহার, পলি পড়ে ভরাট হয়ে ও বৃষ্টির অভাবে নদ-নদী শুকিয়ে যাওয়া, বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় জলবায়ুর পরিবর্তন সহ নানাবিধ কারনে বিভিন্ন প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য প্রতিকুল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিনিয়ত নির্বিচারে বন-জঙ্গল উজাড় ও নানা প্রজাতির ছোট বড় গাছ কাটার ফলে বন-জঙ্গল হ্রাস পাওয়ায় নানা প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে প্রকৃতি থেকে এসমস্ত পাখ-পাখালী ও বন্যপ্রাণী হারেিয় যাচ্ছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও বাসস্থানের চাহিদা মেটাতে বর্তমানে পতিত জমি আর নেই বললেই চলে। এসব পতিত জমি ঝোপ-ঝাড়, ছোটবড় গাছপালা ও লতাপাতায় ভরা ছিল। এসব ঝোপের মধ্যে শিয়াল, খরগোশ, খেঁকশিয়াল, বেজি, সজারু. গুঁইসাপ, বন বিড়াল ইত্যাদি বসবাস করতো। বাসস্থানের অভাব ও শিকারীদের কারনে এসব নেই বললেই চলে।

যাওবা দু’একটা চোখে পড়ে তাও আবার মানুষের মধ্যে অসচেনতা ও আইনের প্রতি অজ্ঞতার কারনে তাও আর বাঁচতে পারছে না। বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ বন্যপ্রাণী অধ্যাদেশ ১৯৭৪ এর (২৬)১খ ধারায় পাথী শিকারীর এক বছর কারাদন্ড ও একহাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারনে তার প্রয়োগ না থাকায় নানাপ্রকার পাখি, বন্যপ্রাণী শিকার ও এসবের বেচাকেনা বন্ধ হচ্ছে না।

কয়েক দশক আগেও দামুড়হুদা উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী এলাকার মাঠের ঝোপঝাড়ে বসবাস করতো শিয়াল, খেঁকশিয়াল, বেজি, খরগোশ ও গুঁইসাপ। ছুটে বেড়াতো বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতসহ ফাঁকা মাঠে। বর্তমানে ভূট্টা, আখসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে দু’একটা খরগোস ও বেজি দেখা যায়।

গ্রামের অনেকে জানায়, প্রায়ই সাঁওতাল ও বুনো-বাগদিরা দল বেঁধে বিভিন্ন মাঠে জাল পেতে ও লাঠিপেটা করে এসব শিকার করে। শিকারিরা তাড়া করলে অনেক সময় বেজি, খেঁকশিয়াল বা খরগোশ গর্তে লুকিয়ে পড়লে কোদাল দিয়ে মাটি খুড়ে গর্ত থেকে তুলে আনে। বন্য প্রাণি শিকার করা আইনত নিষিদ্ধ হলেও এ ব্যাপারে তাদের কোন ধারনা না থাকায় তারা অবাধে এসব শিকার করে। আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারনে তাদের কেউ কিছু বলে না।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর