সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রসাদ ও নুকালী এলাকার ৫টি অবৈধ ভেজাল জ্বালানী তেল পেট্রোল-অকটেন তৈরীর কারখানায় রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন।
উক্ত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল জ্বালানী তেল তৈরীর কেমিক্যাল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া একটি ট্যাংকলরী সহ ওই দুই কারখানায় তৈরী ১৫ হাজার লিটার ভেজাল প্রেটোল ও অকটেন জব্দ করেন। সেই সাথে অবৈধ কারবারের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে কারখানার মালিক-কর্মচারি ৬ জনকে আটক করে র্যাব।
আটককৃত হলো- শাহজাদপুর উপজেলার গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের হাকিম উদ্দিনের ছেলে ভেজাল পেট্রোল তৈরীর কারখানার মালিক হাসান মাহমুদ (৩১), দ্বাবাড়িয়া গ্রামের হাজী আবু তাহেরের ছেলে মহির উদ্দিন মোল্লা (৩০), তার সহযোগী গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের চাঁদ মুন্সির ছেলে শফিকুল মুন্সি (৩২), নবীর উদ্দিনের ছেলে ছোলায়মান মুন্সি (৩৫), ট্যাংকলরি চালক চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে আব্দুস ছামাদ (৩৫), একই উপজেলার তেতুলতলা গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে রবিউল ইসলাম (৩৫)।
পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আটকদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) জাকিয়া সুলতানা কারখানা মালিক মহির মোল্লাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এ ছাড়া অপর কারখানার মালিক হাসান মাহমুদ,ট্যাংকলরি চালক আব্দুস ছামাদ, রবিউল ইসলামকে ৬ মাস ও শফিকুল মুন্সি ও ছোলায়মান মুন্সিকে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে শাহজাদপুর থানা পুলিশে সোপর্দ করেন। শাহজাদপুর থানা পুলিশ তাদের সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে পাঠিয়ে প্রেরণ করেছেন। আটক ট্যাংকলরিটি শাহজাদপুর থানা হেফাজতে ও কারখানা গুলি সীলগালা করে করা হয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ এর ইন্সপেক্টর মো. সবুজ মিয়া জানান, শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) অয়েল ডিপোর পাশে ঢাকা- পাবনা মহাসড়কের নুকালি ও গঙ্গাপ্রসাদ নামক স্থানের ৫টি কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরণের ভেজাল পেট্রোল ও অকটেন তৈরী করে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল।
ফলে এ ভেজাল তেল ব্যবহার করে প্রায়ই এ অঞ্চলের যানবহণ বিকল হয়ে দূর্ঘটনায় পড়ছে ও ব্যাপক প্রাণহানী ঘটছে। এ প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে হাসান মাহমুদের কারখানা থেকে একটি ট্যাংকলরীসহ সাড়ে ১৩ হাজার লিটার ভেজাল পেট্রোল ও অকটেন ও অন্য ৪টি কারখানা থেকে ৮০ ব্যারেল ভেজাল পেট্রোল-অকটেন জব্দ করা হয়।
বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস