ধামরাইয়ের সুয়াপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে বিলীনের পথে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি

ঢাকার ধামরাই উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নে গাজীখালি নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ভেঙ্গে যাচ্ছে নদীর পাড়, নদীগর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে নদী পাড়ের বসতভিটা সহ কৃষিজমি। আর এদের নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান এমনটি জানালেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিন ধামরাইয়ের সুয়াপুর ইউনিয়নের পাকিস্থানী মার্কেট সংলগ্ন গাজীখালি নদীতে গেলে কিছুদূর পর পর মোট ৬টি ড্রেজার দেখতে পাওয়া গেছে। এসময় ঘটনাস্থলে গেলে যারা ড্রেজার চালাচ্ছিল তারা মেশিন বন্ধ করে সরে পড়ার চেষ্টা চালায়। তবে স্থানীয় হারুন-অর-রশিদ, আশরাফুল ইসলাম ভুইয়া এবং ইউসুফ খান এর বসতভিটা ও কৃষিজমি সংলগ্ন নদীর অংশে তিনটি ড্রেজার বসানো দেখতে পাওয়া যায়। আর পাকিস্থানী বাজার থেকে একটু দূরে রয়েছে আরও তিনটি ড্রেজার।

ওই ড্রেজারগুলির চালক আল আমিন নামের একজন জানান, এই ড্রেজারগুলি মানিকগঞ্জের সাগর এবং বালিরটেক এর আরিফ চালাচ্ছেন। এসময় তিনি আরও জানান, সাগর এবং আরিফ নদী খননের সরকারি কাজ পেয়েছেন বলেই নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে।

তবে একজন ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম ভুইয়া এই প্রতিবেদকের নিকট ভিডিও বক্তব্যে জানান, নদীর খননের কাজও যদি এরা পেয়ে থাকে, তাতেও তারা ১৫ ফুটের বেশী গভীর করে বালু উত্তোলন করতে পারে না। সেখানে এরা নদী গর্ভের ৩০ থেকে ৩৫ ফুট গভীর থেকে বালু উত্তোলন করছে। ফলে নদীর পাড় ভেঙ্গে তাদের কৃষিজমি ও বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে।

স্থানীয় হারুন-অর-রশিদ এর বসতভিটা নদীর তীরে। তার বাড়ির সামনেও একটি ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। তিনি জানালেন, যে কোনো সময় তার বসতভিটা নদীতে বিলীন হবে। এজন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট এই অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধের দাবী জানান তিনি।

আরেকজন ভুক্তভোগী ইউসুফ খান আক্ষেপ করে বলেন, এভাবে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করাতে আমাদের ক্ষেত ও জমিজমা নদীতে ভেঙ্গে যাচ্ছে। আর স্থানীয় লোকজন এই কাজে জড়িত আছে বলেই বালু বিক্রি করতে পারছে।

স্থানীয় কারা এই অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা সুয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজুর রহমান সোহরাব এর নাম বলেন। মূলত তার নেতৃত্বেই এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রীর কাজটি চলছে বলেও জানান তারা।

যারা ড্রেজার চালাচ্ছেন সেই ড্রেজারের মালিক সাগর এবং আরিফ কে পাওয়া না যাওয়ায় এব্যাপারে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায় নাই। অন্যদিকে, কথিত নদী খননের ঠিকাদারের কোনো অস্তিত্বও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে পাওয়া যায়নি।

সুয়াপুরের পাকিস্থানি বাজার নামক এলাকায় বাজারের একটূ আগে রাস্তার পাশে বিরাট বালুর ‘ডাম্পিং প্লেস’ তৈরী করা হয়েছে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, নদী থেকে এখানে পাইপ দিয়ে বালু রেখে রাতের আঁধারে ট্রাক ভর্তি করে এসব বালু বিক্রী করে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করছে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহায়তায় একটি চক্র।

তবে, ধামরাইয়ের সুয়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোহরাব এর মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় এব্যাপারে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামিউল হক এর নিকট এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, নদীর খননের কোনো কাজ চলছে না এবং কাউকে এব্যাপারে সরকারি অনুমতিও দেওয়া হয়নি। যারা বালু উত্তোলন করছে তারা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। ওই এলাকায় কয়েকদিন পূর্বে এরকম কয়েকটি অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান ধারাইয়ের এই চৌকিস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

বার্তা বাজার / ডব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর