সিলেটকে তারের জঞ্জালমুক্ত নগরী করার প্রকল্প এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে নগরীর দরগা গেট এলাকার প্রায় তিনশ’ মিটার সড়ক। মাটির নিচ দিয়ে বসানো হচ্ছে বিদ্যুৎ লাইন। তবে ঝুঁকি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ বিভাগকে সঠিক পরিকল্পনা নেয়ার আহ্বান সিটি মেয়রের।
সিলেট শহরকে জঞ্জালমুক্ত করতে গত এপ্রিলে শুরু হয় ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন স্থাপনের কাজ। প্রথম পর্যায়ে আম্বরখানা থেকে সার্কিট হাউজ ও চৌহাট্টা থেকে ওসমানী মেডিক্যাল পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কে শুরু হয় কাজ।
এরইমধ্যে দরগাহ গেইট এলাকার তিনশো কিলোমিটার সড়কের পাশে মাটির নিচে সফলভাবে বসানো হয়েছে বিদ্যুতের লাইন। এতে পাল্টে গেছে ওই এলাকার দৃশ্যপট। তবে, মাটির নীচের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের কাজ কতটা নিখুঁত হয়েছে- তা নিয়ে শঙ্কায় স্থানীয়রা।
সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ভূমিকম্প কিংবা অগ্নিঝুঁকির মত বিষয় বিবেচনায় রেখে কি করণীয় তা নির্ধারণ করা হয়নি এই প্রকল্পে। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের মত কোন দুর্যোগ যদি ঘটে তাহলে এ সময় বিদ্যুৎ এবং গ্যাসকে কীভাবে আমরা আলাদা করবো এ বিষয়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিব।
এদিকে কবে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে কিংবা সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজি নয় বিদ্যুৎ বিভাগ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরে ৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎলাইন নির্মাণ করা হবে। প্রায় ৫শ আরএম স্কয়ার ক্যাবল ক্যাপাসিটির তার নগরের ইলেক্ট্রিক সাপ্লাইস্থ বিদ্যুৎ সাবস্টেশন কেন্দ্র থেকে শুরু হয়ে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন আম্বরখানা হয়ে যাবে চৌহাট্টায়। সেখান থেকে একটি লাইন যাবে নগরীর জিন্দাবাজার হয়ে সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট সার্কিট হাউজ পর্যন্ত। আরেকটি লাইন যাবে চৌহাট্টা থেকে রিকাবীবাজার হয়ে ওসমানী হাসপাতাল পর্যন্ত। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া কাজ ২০১৯ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিলো। এরপর দীর্ঘায়িত হয়ে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা।
প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ২০৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটে বিদ্যুতের ডিভিশন-১,২,৩,৪ এলাকায় নয়টি সাবস্টেশন হবে। বিভাগে অত্যাধুনিক অন্তত ২৫টি সাবস্টেশন হবে। নগরের ভূগর্ভ লাইনসহ সিলেট বিভাগে বিদ্যুৎ উন্নয়নের কাজ চলছে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে ৩৩ কেভি ২ কিলোমিটার, ১১ কেভি ২৫ কিলোমিটার, চার কেভি ১৮ কিলোমিটার ভূগর্ভ লাইন, ১১ দশমিক ৪ কেভি উপকেন্দ্র, বিদ্যুৎবিভাগ সিলেটের চারটি ডিভিশনে ট্রান্সফরমার স্থাপন, ১১ কেভি লাইন ২০২ কিলোমিটার নতুন, সংস্কার ৩৫৬ কিলোমিটার, ১১ দশমিক ৪ কেভি নতুন ১৭৭ কিলোমিটার, সংস্কার ২২৮ কিলোমিটার, চার কেভি নতুন লাইন ৩৪৯ কিলোমিটার এবং ৩৫০ কিলোমিটার সংস্কার কাজ করা হবে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি