সাতক্ষীরায় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের ক্ষণগণনার উদ্বোধন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মুজিব র্যালি ও বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধু ছবি, প্লাকার্ড ও ব্যাণারসহ সাত হাজার মানুষের অংশগ্রহণে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি’র নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্ব সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাতক্ষীরা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আলোচনা সভাস্থলে গিয়ে মিলিত হয়।
প্রথমে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পূস্পার্ঘ্য অর্পণ, সমবেত কণ্ঠে শুদ্ধস্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও বিজয় ফুলের বিশেষ প্রদর্শণী করা হয়। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যবর্তন দিবস এবং মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাতক্ষীরা সদর ০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন, সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাদেকুর রহমান, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক হুসাইন শওকত, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এম.এম মাহমুদুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম আফজাল হোসেন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসু দেব, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী, বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক এ এস এম ওয়াজেদ হোসেন, ও মোটরযান পরিদর্শক মোঃ নাসিরুল আরিফিন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনছান বাহার বুলবুল, শেখ তহিদুর রহমান ডাবলু, আমিনুর রহমান উল্লাস প্রমুখ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন এবং কর্মের উপর আলোচনা সভা শেষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সাতক্ষীরায় দল মত নির্বিশেষে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে।
সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুসফিকুর রহমান মিল্টন।
অপরদিকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে কালিগঞ্জ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্যদিয়ে উদযাপীত হচ্ছে মুজিববর্ষ। শুক্রবার সকাল ৮ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০ টায় কালিগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়, সাড়ে ১০ সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, বর্ণাঢ্য র্যালী সহকারে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর ম্যুরালে পুস্পমাল্য অর্পণ ও বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় মুজিববর্ষ উৎযাপন উপলক্ষে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা সভা।
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল এর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক সুকুমার দাশ বাচ্চু’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিঃ সহ সভাপতি সাঈদ মেহেদী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ দেলোয়ার হুসেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সিফাত উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নাজমুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিপালী রানী ঘোষ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মাষ্টার নরিম আলী, রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম জাফরুল আলম বাবু, বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাঃ গাজী আজিজুর রহমান, উপজেলা আ”লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডঃ হাবিব ফেরদৌস শিমুল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন প্রমুখ।
দীর্ঘ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদ মেহেদী বলেন আজ আমরা ধন্য, আজ আমরা গর্বিত। কেননা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান জন্মগ্রহন না করলে আমরা পেতামনা লাল সবুজ পতাকার একটি মানচিত্র। আমরা এখন একটি সুখি সমৃদ্ধশালী স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ সময়টুকু উদ্যাপিত হবে মুজিব বর্ষ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মুজিব বর্ষ উদ্যাপনের নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, এবিষয়কে সামনে রেখে বেশ একটা কর্মযজ্ঞ চলছে। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে তা আমাদের জীবনে কাজে লাগাতে পারি, তা হবে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা ও স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ উপায়। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এই স্বাধীন দেশে মানুষ যখন পেট ভরে খেতে পাবে, পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন; তখনই শুধু এই লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।’ এই কথাটা কিন্তু গভীরভাবে ভাবার মতো।
বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের পড়া উচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমান, আমাদের জন্মের ইতিহাস।
বার্তা বাজার/এইচ.আর