কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহানায়ক অফিস সহায়ক শাহাজালাল

দুর্নীতির দিন শেষ, গড়বো সোনার বাংলাদেশ। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তারপরও কিছু কিছু দপ্তরের কর্মচারীদের চাহিদার শেষ নেই। তারা উৎকোচ, ঘুষ বা বাড়তি টাকা ছাড়া তিল পরিমাণ কাজ করতেও রাজি নয়। চাহিদানুযায়ী টাকা না দিলে করে হয়রানী । উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) আবু সাঈদ বদলীর পর কিছুদিন ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ম কিছুটা কমলেও এখন ‘যেই লাউ সেই কদু’। এমন পথে চলছে কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক শাহজালাল সরকার। জমি নামজারিকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি এতটাই সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে যে, এটিকে মানুষ অভিশাপ হিসেবে দেখে। অফিস সহায়ক এভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম করার পর যদি নূন্যতম তদন্ত পর্যন্ত না হয় এবং কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিনত হবে কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস।

অভিযোগ রয়েছে, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিসের শাহজালাল সরকার অফিস সহায়ক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন এবং ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। তিনি যথাসময়ে অফিসে আসেন না। নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান করিয়া অফিসে আসার নিয়ম থাকলেও তিনি ওই ইউনিফর্ম পড়েন না কখনো। অন্যান্য কর্মচারীর চেয়ে তার দাপটই এ অফিসে বেশী। তার ব্যবস্থাপনা দেখে যে কেউ মনে করবেন তিনি এ অফিসের বড় কর্তা। ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন ইসারায়। বাহিরে চায়ের দোকানে বসে কাগজপত্র দেখে করেন খারিজসহ বিভিন্ন কাজের চুক্তি। খতিয়ে দেখলে মিলবে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারী)বিকেল সাড়ে ৪টায ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায় অফিস সহায়ক শাহাজালাল কম্পিউটার টেবিলে বসে একটি খারিজ আবেদনের কাজ করছে। আসলে খারিজ আবেদন করাই কি তার কাজ।

কালীগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনশ্বর এলাকার ভুক্তভোগী আমিনুর রহমান জানান, ৮ মাস পূর্বে ভূমি অফিসে নামজারি কেস দিয়েছেন অফিস সহায়ক শাহাজালাল কে। দাবী করেছে ২৫০০ টাকা অল্প সময়ের মধ্যে জমির খারিজ পেয়ে যাবে এমন আশায় তিনি ২৫০০ টাকা দেন।কিন্তু তার ফাইলটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। পরে অফিসে গেলে অফিস সহায়ক নানা অজুহাতে ঘুরাতে থাকে। এভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে ওই ভুক্তভোগী ৮মাস ধরে।

এ বিষয় জানতে চাইলে অফিস সহায়ক শাহাজালাল সরকার বলেন, ওনার খারিজ বাতিল হয়েছে, কখনো বলেন নিষ্পত্তি হয়েছে। আবার কখনো বলেন আগামী সপ্তাহে ওনার খারিজের কাজ করে দিব।

এ বিষয় নাজির জমির উদ্দিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই খোজ নিয়ে দেখতে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রবিউল হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

বার্তা বাজার/এইচ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর