অবন্তী সিঁথি। কণ্ঠশিল্পী। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দেশ টিভিতে ‘প্রিয়জনের গান’ অনুষ্ঠানে আজ গাইবেন তিনি। গানের এই সরাসরি আয়োজন, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে –
‘প্রিয়জনের গান’ অনুষ্ঠানের জন্য কোন গানগুলো গাইবেন?
দেশের গানের পাশাপাশি আজ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কালজয়ী কিছু গান শোনাব। ‘প্রিয়জনের গান’ অনুষ্ঠানের আজকের পর্ব প্রচার করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে। যে জন্য পুরো আয়োজন সাজানো হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধকালীন এবং তার পববর্তী সময়ে সাড়া জাগানো দেশের গানগুলো দিয়ে।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কালজয়ী গানগুলো গাইতে গিয়ে আলাদা কোনো অনুভূতি হয়?
আমি যতবার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানগুলো গাওয়ার চেষ্টা করেছি, প্রতিবারই মনে হয়েছে, আমি যেন মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করার জন্যই গাইছি। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি তারাও অনুভব করতে পারি, এই গানগুলো কতটা শক্তিশালী। গানের কথা, সুর, সংগীত আর গায়কি যে একেকটি অগ্নিবাণ। শত্রুর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের গর্জে ওঠার সাহস আর শক্তি মিশে আছে এই গানগুলোর মাঝে। হয়তো এ কারণেই শুরু থেকে এখন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানগুলো শ্রোতাদের মন আন্দোলিত করে আসছে।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ একক গান প্রকাশ করছেন শুনলাম?
ঠিকই শুনেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আমার একটি একক গান প্রকাশ পাচ্ছে। ‘তুমি কোটি মানুষের চোখে স্বাধীনতার একটি নাম/তুমি কোটি মানুষের মুখে মুক্তির সংগ্রাম/বঙ্গবন্ধু তুমি একটি দেশ লাল-সবুজের পতাকার/বঙ্গবন্ধু তুমি একটি ভাষণ চেতনায় জেগে ওঠার’- এমন কথার গানটি লিখেছেন সুজন হাজং। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ। এটি এসএইচ গ্লোবাল ইউটিউব চ্যানেলে আজ প্রকাশ পাবে।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাওয়ার ইচ্ছা কি আগে থেকেই ছিল, না সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া?
জাতির পিতাকে নিয়ে গাইতে পারা যে কারও জন্যই আনন্দের বিষয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাওয়ার ইচ্ছা আগেও ছিল। তাই যখন সুযোগ এলো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গান গাওয়ার, তখন সেই প্রস্তাব কোনোভাবেই ফিরিয়ে দিতে চাইনি। তারচেয়ে বড় বিষয় হলো, ‘তুমি কোটি মানুষের স্বাধীনতার একটি নাম’ গানটি কথা-সুর-সংগীত মনকে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। তাই জাতির পিতা, দেশ, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আগামীতেও গাইতে চাই।
সারেগামাপা প্রতিযোগিতা থেকে ফিরে কীভাবে সংগীত জীবনের পথ পাড়ি দেবেন, তা নিয়ে আলাদা করে ভেবেছিলেন কী?
গানের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখব- রিয়েলিটি শো থেকে ফিরে এই সিদ্ধান্তই নিয়েছি। শুধু তাই নয়, গানের জন্য শিক্ষকতা ছেড়েছি। এখন আমার শিল্পী পরিচয়ই প্রধান। এতদিন বিভিন্ন শিল্পীর গান গেয়েছি। এবার নিজের মৌলিক কিছু গান শ্রোতাদের শোনাতে চাই। সে পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। এর মধ্যে চারটি মৌলিক গান রেকর্ড করেছি। ক’দিনের মধ্যেই সুজন বড়ূয়ার কথা ও সজীব দাসের সুরের ‘মনের ডায়েরি’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশ করব। এটি প্রকাশের পর একে একে বাকি গানগুলো প্রকাশ করার পরিকল্পনা আছে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি