ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমঝোতা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। জাতিসংঘে দেওয়া ট্রাম্পের ওই প্রস্তাবের পর আজ বৃহস্পতিবার তা প্রত্যাখ্যান করে ইরান।
ইরানের বার্তা সংস্থা দ্য ইরনা‘র বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় মার্কিন সমঝোতা প্রস্তাবকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে প্রত্যাখান করেছে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মজিদ তখত রাভেঞ্চি।
এ ছাড়া যেকোনো সহযোগিতা ও আলোচনায় না বসার কথাও বলেন তিনি। মজিদ তখত রাভেঞ্চি আরও বলেন, গত ৩ জানুয়ারি কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সুলেইমানিকে হত্যা করে ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান শত্রুতার একটি নতুন সিরিজ শুরু করেছে।
তবে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার পর জাতিসংঘকে পাঠানো চিঠিতে সমঝোতায় বসতে প্রস্তুত বলে জানায় ওয়াশিংটন। সোলেইমানিকে হত্যার সিদ্ধান্ত আত্মরক্ষার খাতিরে ন্যায়সঙ্গত বলে ওই চিঠিতে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে গতকাল বুধবার ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮০ জন মার্কিন সেনা নিহত ও ২২৪ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করছে তেহরান।
এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘মুখে থাপ্পড়’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছে, এ হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে পেশ করা চিঠিতে বিশ্ব সংস্থাটির মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেলি ক্রাফ্ট বলেছেন, ‘ইরান কর্তৃক আন্তর্জাতিক শান্তি ও সুরক্ষা বিনষ্ট রোধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করতে প্রস্তুত।’
জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের অধীনে কমান্ডার সোলেইমানি হত্যার বিষয়টি ন্যায়সঙ্গত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ৫১ অনুচ্ছেদ অনুসারে, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে অবিলম্বে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলকে অবহিত করতে হবে।
অপরদিকে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত মজিদ তখত রাভেঞ্চিও ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে লিখিত প্রতিবেদন পেশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তেহরান কোনো ধরনের ‘বাড়াবাড়ি বা যুদ্ধ চায় না’।
তেহরান প্রতিরক্ষা অধিকার প্রয়োগ করে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ‘পরিমিত এবং আনুপাতিক সামরিক প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করে।’ অপারেশনটি সুনির্দিষ্ট এবং লক্ষ্যবস্তু সামরিক উদ্দেশ্য ছিল, যাতে ওই অঞ্চলের বেসামরিক মানুষ ও সম্পদের কোনো যেন ক্ষতি না হয়।
বার্তাবাজার/কেএ