দাবানলে অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে অস্ট্রেলিয়া। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ দাবানলে দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে ৮০০ মিলিয়নেরও (৮০ কোটি) অধিক জন্তু দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওয়ালজুড়ে ভাসছে দাবানলের ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ সব ছবি। বিশেষ করে নানা ধরনের পশুপাখির দগ্ধ ছবি। সম্প্রতি এমনই অনেক ছবি নাড়া দিয়েছে পশুপ্রেমীদের। দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া একটি বাঘ, কোয়েলা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট মেয়ের ছবিসহ নানা ধরনের ছবি কাঁদাচ্ছে বিশ্ব। তবে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, এসব ছবির মধ্যে অনেকগুলোই ভুয়া।
১. দগ্ধ বাঘ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দগ্ধ একটি বাঘের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সিডনির সোর্স দিয়ে মি. ফ্লাপি পিএএইচ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ জানুয়ারি ছবিটি পোস্ট করা হয়। এর পরই ভাইরাল হয়ে যায় ছবিটি। ৮৫ হাজার বার শেয়ার হয়। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৪২ হাজার ব্যক্তি। ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে ৪৮ কোটির বেশি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। শতাধিক বিরল কোয়েলা পুড়ে মারা গেছে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রার্থনা করি।’ টুইটারেও ব্যাপকভাবে পোস্ট করা হয় ছবিটি।
এএফপি বলছে, গ্রাফিক ছবিটি ভুয়া। ২০১২ সালে ইন্দোনেশিয়ার একটি ছবি এটি। ওই সময় কর্তৃপক্ষ কিছু বাঘের মূর্তি আগুন দিয়ে ধ্বংস করে। আসল ছবিটি আন্তর্জাতিক ফটো এজেন্সি শাটারস্টক সম্পাদকীয়র তোলা একটি ছবি, যা ২০১২ সালের ১২ নভেম্বর প্রকাশিত হয়। সেই ছবি অস্ট্রেলিয়ার দাবানলের বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
২. দাবানল থেকে কোয়েলা বাঁচাল ছোট্ট মেয়ে

৭ জানুয়ারি টুইটারে পোস্ট করা একটি ছবিতে দেখা যায়, একটি কোয়েলাকে কোলে নিয়ে পানিতে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট একটি মেয়ে। মুখে মাস্ক পড়া শিশুটির পেছনে অগ্নিশিখা ও ধোঁয়ার বিশাল এক প্রাচীর। ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকে ছবিটি হাজার হাজার বার শেয়ার করা হয়। দাবি করা হয়, এটি অস্ট্রেলিয়ার দাবানলের বাস্তব ছবি।
তবে আসল ঘটনা হলো থুইয়ি নামের এক শিল্পীর তোলা ছবি। এটি তার মনের কল্পনা। শিল্পী এএফপিকে জানিয়েছেন, এটি দাবানলের প্রেক্ষাপট বোঝাতে প্রতীকী ছবি। মেয়ে পানিতে দাঁড়ানো অবস্থায় ছবিটি তিনি তোলেন। পরে কল্পনাতে দাবানলের ভয়াবহ প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
৩. উদ্ধারের পর ক্যাঙারুর কৃতজ্ঞতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি ভিডিও ভাইরাল হয়। দুটি ভিডিওই একই ধরনের। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক নারীকে কৃতজ্ঞতার চিহ্ন এঁকে দিচ্ছে একটি ক্যাঙারু। ক্যাঙারুটি কৃতজ্ঞতায় ওই নারীকে জড়িয়ে ধরেছে। এই ভিডিও দুটি লাখের বেশি বার শেয়ার করা হয়েছে। তবে দুটো ভিডিওই ভুয়া। এটি দাবানলের নয়। এএফপি বলছে, অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি ক্যাঙারু অভয়ারণ্যে করা হয় এই ভিডিও। ওই অভয়ারণ্য কর্তৃপক্ষই বিষয়টি নিশ্চিত করে। ২০০৬ সালে ধারণ করা হয় ভিডিও দুটি।
৪. বৃষ্টিতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীর আনন্দ

৬ জানুয়ারি ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান একটি ভিডিও শেয়ার করে। তারা এতে ক্যাপশন দেয়, ‘অস্ট্রেলিয়ায় বহুল প্রতীক্ষিত বৃষ্টি ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয়দের স্বস্তি এনে দিয়েছে।’ ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষায় ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। তবে বার্তা সংস্থা এএফপি নিশ্চিত হয়েছে, এই ভিডিওটি এখনকার নয়, গত বছরের নভেম্বরে তোলা।
৫. দাবানল থেকে বাঁচতে পানিতে আশ্রয় নিয়েছে একটি পরিবার

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর ধোঁয়া, দাবানলের প্রভাবে লাল হয়ে আছে চারপাশ। একটি জেটির পাশে পানিতে নেমে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন এক নারী। সঙ্গে রয়েছে তার পাঁচ সন্তান। এই নাটকীয় ছবিটি ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে বারবার শেয়ার করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার চলমান দাবানলের। তবে ছবিটি আসলে ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ায় ঘটা দাবানলের সময় তোলা হয়েছিল।
বার্তাবাজার/এমকে