লক্ষ্মীপুরে দীর্ঘ ৩১ বছর আইনি লড়াই চালিয়ে অবশেষে মালিকানাধীন ১৮ শতাংশ জমি ফিরে পেয়েছে জমির প্রকৃত মালিক। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসনের সহযোগীতায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে ওই জমিতে অভিযান চালানো হয়।
আদালতের রায়ে জমির প্রকৃত মালিক জেলা শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকার মাহমুদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি বিএডিসির সাবেক ব্যবস্থাপক (খামার)। গোরাঙ্গ চন্দ্র নামে এক ব্যক্তি ও তার ওয়ারিশগণ দীর্ঘ সময় ধরে জমিটি অবৈধভাবে তাদের দখলে রেখেছেন।
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ তেমুহনীর ৭৫ নং সমসেরাবাদ মৌজার জিলা জরিপি ৩৫৪ নং খতিয়ান ও এমআর ৩৪১ নং এর জমা খারিজ খতিয়ান নং ৭৪১, ৭৪২, ২২৯৮, ও ১৮১৭ অধীন ১০৮০ দাগে ১৮ শতাংশ জমির মালিক মকছুদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। তিনি একজন সরকারী চাকুরীজীবি ছিলেন। ১৯৮৮ সালে পৌরসভার অনুমতি নিয়ে ওই জমিতে ব্যাণিজ্যিক ইমারত নির্মাণ করতে গেলে রাতের আঁধারে জমিটি জোরপূর্বক নিজেদের দাবি করে দখল করে নেয় গোরাঙ্গ চন্দ্র নামে আরেক ব্যক্তি।
১৯৯০ সালে মকছুদুর রহমান মারা গেলে তার ছেলে মাহমুদ হোসেন বন্টক ও উচ্ছেদের জন্য আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। সহকারী জজ আদালতে (রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর) ওই মামলার রায় হয় ১৯৯৭ সালের ২৫ জুন। রায়ে গোরাঙ্গ চন্দ্রকে অবৈধ দখলদার হিসেবে উল্লেখ করে বাদীকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপিল করে বিবাদী পক্ষ। ২০০১ সালে সেটি খারিজ হয়ে যায়। ২০০২ সালে বিবাদীরা উচ্চ আদালতে গেলে ২০০৮ সালে সেটিও খারিজ করে দেয় বিচারক। এভাবে পর পর ১২ টি মামলায় রায় পায় যায় জমির মকলিক মাহমুদ হোসেন গং।
জমির মালিক মাহমুদ হোসেন সাংবাদিকদেন জানান, বিগত ৩১ বছরে ১২টি মামলার রায় আদালত তার পক্ষে দেয়। বর্তমানে চুড়ান্ত জারিকৃত ডিক্রি অনুযায়ী উচ্ছেদ ও খাস দখলের জন্য গেল ১৯ সেপ্টেম্বর মূল কোর্ট সহকারী জজ আদালতে (রামগঞ্জ/লক্ষ্মীপুর) পিটিশন দাখিল করি। এর পরিপেক্ষিতে বৃহস্পতিবার অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
বার্তাবাজার/এমকে