কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলা থেকে পশ্চিমে মাত্র ৬ কিলোমিটারের রাস্তা পার হলেই মিলবে হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদ। আর এই ইউনিয়ন পরিষদের ভেরভেরী গ্রামের সরকার পাড়ার ৫ নং ওর্য়াডের বাসিন্দা জোবেদা বেগম।
গত ৪ বছর হলো স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। ৩ মেয়ে ও ১ ছেলের মধ্যে ২ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন,১ ছেলে কাজ করেন দিনমজুরের আর ছোট মেয়ে সুইটি বয়স ১৫ বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী থাকার কারণে পরিবারের এক কোণে পড়ে থাকে কিশোরী এই মেয়েটি। বছর দুয়েক আগেও সুইটি ছিলো হাস্যউজ্জল,স্থানীয় একটি প্রতিবন্ধী স্কুলে পড়াশোনা করতো সে।

কিন্তু স্কুলটি বন্ধ হওয়ার কারণে থেমে যায় সুইটিরও পড়াশোনা। সুইটির ভাইয়ের দিনমজুরের উপার্জনের অর্থ দিয়ে চলছে তার জীবন। সুইটির জন্ম ২০০৫ সালের নভেম্বর মাসে। ছোট বেলা থেকেই সে অন্য শিশুদের থেকে একটু আলাদা। ধীরে ধীরে তার শরীরের ও মানসিক পরির্বতনও লক্ষ্য করে তার মা-বাবা। বাবা মারা যাবার পর পরিবারের হাল ধরেন তার ভাই মোঃ জনি(২৪)।
একমাত্র ভাইয়ের প্রতিদিনের উপার্জন দিয়ে কোনমতে চলছে তাদের জীবন। প্রতিবন্ধী বোনটির জন্য জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ৯ বছর থেকে ঘুরে নিরাশ হয়েছেন তার ভাই মোঃ জনি। সুইটি গত ৯ বছর থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পায় নি,পায়নি কোন ধরনের প্রতিবন্ধী সুবিধা।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওর্য়াডের কমিশনার মোঃ রফিকুল বলেন,”ভাই আমরা নাম পাঠাইছি,কার্ড পাবে কি পাবে না,কোন গ্যারান্টি দিতে পারছি না।”
এ বিষয়ে সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এস এম হাবিবুর রহমান বার্তা বাজার কে বলেন,”বিষয়টি আমার জানা ছিলো না,আমরা এই মেয়েটির কোন নাম-তালিকা পাইনি। মেয়েটির পরিবার থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে,আশা করছি এ বছরের আগামী মাসে আমরা সুইটি কে, প্রতিবন্ধী ভাতা বই এর আওতায় আনতে পারবো।”
বার্তাবাজার/এমকে